Skip to main content

Posts

Showing posts from 2019

ছদ্মবেশ - কলমে পূজা চ্যাটার্জী

ক্যানভাসের ওপর তুলি টানলাম...  টুকরো টুকরো খুঁটিনাটি রঙিন স্বপ্ন আমার..!   সাধ করে নীল রং লাগালাম..  ভাবলাম, নীলের সাথে গভীরতা ডুবে যাব!  কৃত্তিম উত্তাপ আর নয়..  ঝলসে যাব কমলা সূর্যের আলোয়..!!  হঠাৎ আঘাত করল দুর্ভেদ্য লাল কালির  আচর..  ছবি ঘরে   স্পষ্ট ক্ষত টের পেলাম ;  ভেজা ভেজা মেঘ জমলে চটজলদি..  কালো রংয়ের কষ্টে ভরে উঠলো ক্যানভাস..  আর শ্রাবণের জলে সব রঙ মুছে ফেললাম..!!  ধীরে ধীরে কালো রং ফিকে হল, ধূসর হলো..!!  আবার অপেক্ষা........  এরপর ধীরে ধীরে শুরু হলো  আবার সবুজ প্রাণের আনাগোনা..  নতুন চিকন সবুজ প্রেমের সুবাস..!!  আমি আজ অশান্ত....  আমার শান্তি আজ তোলা থাক...  আমার সব ছদ্মবেশ আজ শেষ,,  আমাকে ভালোবাসি...!!!  জোর দিয়ে বলতে পারি..!!  স্বার্থপর আমি,,  বারবার আমার আমি   টাকেই খুঁজে ফিরি..!!   শুধু আবিষ্কার করি, নবতম আমি  কেই..!!!

বিষয় - পুজোর প্রেম , কলমে - রাজদীপ দাস

রাধাবাজার স্বাধীন সংঘ.. হ্যাঁ, আমার পাড়া, আমাদের পাড়া... আর পাড়ার পুজো মানেই মহোৎসব, বাঙালীর শ্রেষ্ঠ উৎসব বলে কথা.. বছরের ৪টে দিনের জন্য সারা বছরের অপেক্ষা..... মা বললো, 'আজ সপ্তমী, তাই সাদা পোষাকটা পর, তোকে বেশ লাগবে..... ' আমি খানিকটা সংকোচ বোধ করলেও মায়ের কথাটা ফেলতে পারিনি.... তাই পরে নিলাম.... হ্যাঁ, আমি সায়ন্তিকা , পাড়ার সবচেয়ে দুরন্ত ও ছটফটে মেয়ে, পাড়ার কাকিমারা আমাকে তাই আদর করে naughty girl উপাধি দিয়েছে.... তো বাড়ী থেকে বেরোলাম পাড়ার মন্ডপের উদ্দেশ্যে...... ১১টা বাজে, বন্ধুরা সকাল থেকে ফোন, মেসেজের ভূমিকম্প করছে..... বেশ আনমনা হয়ে হাঁটতে গিয়ে আলগা হোঁচট খেলাম, কানে এলো খিলখিল কলে কে যেন হাসছে... ফিরে দেখি, ও বাবা !! One & Only অভিলাষ, আমার বছরভরের ক্রাশ..... আমাকে দেখে বললো, 'একটু দেখে চলতে পারো না ?? পুজোগন্ডার দিনে কি পা মোচকে ঘরে বসে YouTube-এ পুজো পরিক্রমা দেখার Plan-এ আছো নাকি ??' আমি লজ্জাতে তাড়াতাড়ি চলে গিয়ে প্যান্ডেলে ঢুকলাম... এর আগে অভিলাষের সাথে সরাসরি কথা বলার হিম্মত হয়নি, তাই বেশ লজ্জাই পেয়েছিলাম সেদিন.... সপ্তমীটা এই ঘটনার ভা...

বিষয় - পুজোর প্রেম । " পারফিউম " - শিপ্রা কর্মকার

আশ্বিন মাস,শরতআকাশ রূপলী মেঘে ঝলমলে।মাঝে মাঝে আবার গম্ভীর মেঘের আবির্ভাব ।মেঘেদের লুকোচুরি খেলা ।বাতাস শিউলিফুলের সৌরভে মুখরিত।কাশের বনে কাশফুল আনন্দে সম্ভাষণ জানাচ্ছে ।ক্ষেতে নবশস‍্য মঞ্জরী হাওয়ায় দুলছে ।চারদিকে খুশি সকলে দেবী দুর্গার আবাহনে ব‍্যস্ত ।প্রকৃতিও ব‍্যস্ত তার নানা অলঙ্কারের ডালি সাজিয়ে ।পূজোর আগমনী বার্তায় অতীতের স্মৃতি খুব মনে পড়ে যায় ।সেই গন্ধ ,কতো কথা ,কতো সাজানো স্বপ্ন সব একে একে মনের পর্দায় ভেসে আসছে ঠিক ছায়াছবির মতো ।সেই বিশেষ গন্ধ মনে করিয়ে দিল আরো অনেক কিছু !                         প্রায় দুযুগ আগের কথা তখন পূজোর আনন্দ  অন‍্যরকম অনেক বেশি বনেদিয়ানায় মোড়া ।বাড়িতে পূজা নাহলেও মহালয়ার দিন থেকেই মঙ্গল ঘট পাতা হতো ,সেই দিন থেকে চণ্ডী পাঠ শুরু হতো ঠাকুর ঘরে। পরিষ্কার পরিছন্ন বাড়ির চারপাশে ।মা উমা আসছে বাপের বাড়ি ।তাই এতো সাজসাজ রব ।নতুন পোশাক নানা খাওয়া দাওয়া ,কখনও আত্মীয় স্বজনের ভীড় পূজোর আনন্দকে একেবারে অন্য মাত্রায় নিয়ে যেতো । নতুন পোশাকের গন্ধ ,বন্ধুরা মিলে হৈচৈ আবার মাঝে মাঝে পূজো মণ্ডপে গিয়ে ঠাকুর ...

বিষয় - পুজোর প্রেম। গল্প - অল্প প্রেমের গল্প , কলমে - চম্পা সর্দার

জয়াদেবী ফোনটা হাতে নিয়ে উদাস হয়ে বসে ছিলেন বারান্দায়। মনে পড়ছিল- সাগর, ঝিনুক তখন কত ছোট... মা, এবার কিন্তু আমাকে পুজোতে একটা পুলিশের ড্রেস কিনে দেবে, আর একটা বন্দুক। দশ রিল ক্যাপ চাই আমার। রোজ রোদে দেবো, দেখবে কেমন ফাটে। নাড়ু বানানোর জন্য নারকেলে পাক দিতে দিতে জয়া বলে- সাগরের চাহিদা তো শুনলাম এবার তোর কি চাই ঝিনুক? আমার একটা গোলাপি রঙের ফেয়ারি ড্রেস। গোলাপি হেয়ারব্যান্ডও চাই, তিনটে ফুল লাগানো। তা তোমার কি চাই জয়া? বাজারের ব্যাগটা রান্না ঘরের এক কোণে নামিয়ে রাখেন সুব্রত বাবু। আরে, আরে তোমার কি কোনো দিন বুদ্ধি হবে না! একশো দিন বলেছি, বাজার করে ব্যাগ রান্না ঘরে ঢোকাবে না! চেঁচিয়ে ওঠে জয়া। দেখলি সাগর, দেখলি ঝিনুক তোদের মা কেমন সারাক্ষন আমায় বকতে থাকে। তোদের সাথে সাথে আমারও নিস্তার নেই তোদের মায়ের কাছ থেকে। সেবারের পুজোতে ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে ছবি তোলা হয়েছিল স্টুডিওতে। একটা ছবিতে পুলিশের ড্রেস পরে সাগর আর পরীর মতো সাজে ঝিনুক। আর একটা ছবিতে জয়া, সুব্রতর সাথে সাগর, ঝিনুক। ফ্যামিলি ফটো। ফোন গ্যালারিতে ছবিগুলো দেখতে দেখতে চোখটা ঝাপসা হয়ে আসে ষাটোর্ধ্ব জয়ার। এলবাম থেকে ফোনে ছবি ত...

বিষয় - পুজোর প্রেম , নাম - প্রথম দেখায় , কলমে - তানিয়া আদক

"সন্ধ্যের জন কোলাহলে কোনো এক নবমীর সন্ধিক্ষনে দেখেছিলাম ওদের ভিড়ে আড়চোখে,আয়নাতে প্রতিবিম্বরূপে.... অজানা ভালোলাগায় দুরুদুরু বুকে দেখেছিলাম প্রতিচ্ছবি,তোমার। কেউ দেখেনি কতটা আকাঙ্খিত সে চাহনি, শুধু দেখেছিল অদৃষ্ট... তবু বুঝিনি এ কেমন প্রেমময়তা? চোখের এক পলকে বুকের এক ঝলকানি। আশ্বস্ত আবহাওয়ায় ভেসে যাওয়া, প্রথম দেখায়;প্রেমে নয়। সেই নবমীর দু ফোঁটা বৃষ্টির রসিকতায় সেই অযাচিত স্পর্শ..... আজও মরা নদীতে আনে বান, ভাঙে পাড় হৃদয়ের, পাড়ি দেয় মোহনায়। তাই আজ পাড়ি দেবার সময় ঘনিয়েছে, এগিয়ে যাই যদি পাই সমুদ্র, ফিরবোনা পিছনে.... তবু দেখিস ডেকে,পরিযায়ী পাখিরাও যে ফেরত আসে, কিন্তু আমি হয়তো বা আর না......"

বিষয়-পুজোর প্রেম, গল্প - শরতাকাশে মন ভাসে , লেখিকা - তাপসী ঘোষ

- এ্যাই বনি শোন শোন…. দুর্গা পূজো সামনে। বনানী সাজের জিনিস কিনতে দোকানের দিকে। হাঁকডাকে দাঁড়িয়ে পড়লো। রবিবার। ঠেকে ছেলেদের আড্ডা চলছে। নাড়ু, রবি, কৌশিক পাড়ারই ছেলে সব। - কিরে এই সকালে কই যাস? বনানী মুখ কুঁচকে বললো - সে খবরে তোমার কি রবিদা? রবি মনে মনে বনানীকে ভালোবাসে। - একা যাস, যদি কুকুরে তাড়া করে! - কেন, আমি কি চোর? পাশ থেকে কৌশিক বলে উঠলো, মাইরি তুই চোর হতে যাবি কেন! তুই হলি গিয়ে আমাদের গুরুর বোন। তোকে রক্ষা করা কর্তব্য।  - দাদা কি তোমাদের দায়িত্ব দিয়েছে? নাড়ু তোতলা। উত্তেজিত হলে কথা আরো জড়িয়ে যায়। শব্দগুলো তখন ভয়ানক আকার নেয়। - এ্যাই বববড়দের সসসসঙ্ গে সম্...সম্ মানে.....ক...ক....ক বনির ধৈর্য্য কম। সে তার পথ ধরলো। বাড়া ভাতে ছাই পড়তেই রবি ক্ষেপে লাল  - শালা, তোকে কে কথা কইতে বলেছে? কৌশিক সবে লাইনে ফেলছিল। ধুস্...  এমনক্ষণে মধুবন আর বিমানের আগমন। - কি হয়েছেরে? বিমান প্রশ্ন তুলল। রবি ব্যাজার মুখে বললো - বনিকে একটু লাইন মারছিলাম। নাড়ু মাকড়া কেঁচিয়ে দিল। প্লিজ একটু ব্যবস্থা করে দেনা বস্। মাইরি তোর বোনটা এতো ত্যারা, বাগে আনতেই পাচ্ছি না! - হ্যাঁ গুরু তুমি ...

বিষয় - পুজোর প্রেম , কলমে - সৌমী রাহা আখুলি

সপ্তমীতে প্রথম দেখে মনটা কেমন করে,  অষ্টমীতে প্রেম বিনিময় হল চুপিসারে। বহু প্রতীক্ষার হল অবসান হৃদয় উঠল নেচে,  সোনার কাঠির পরশ পেলাম কোন অজানার বেশে। শিউলি সুবাসে মাদকতা আর কাশফুলে হিল্লোল, শারদপ্রাতে হৃদয় মাঝে লাগলো ফাগের দোল। সন্ধিপূজোয় চতুর্দিকে মায়াবী এক আলো, এলোকেশী চুল,রাঙা লাল টিপ, আঁখির কাজল কালো। নবমীতে মন খারাপির করুণ বীণার সুর, নয়ন সরসী দেখি আজ জলে ভরপুর। দশমীতে কোলাকুলি সিঁদুর খেলার ফাঁকে, বেদনাতেও খুশীর পরশ প্রণাম জানাই মাকে। আসছে বছর এসো মাগো এই কামনা করি, তোমার আশিস মাথায় নিয়ে প্রিয়তমার হাত ধরি।

বিষয় - পুজোর প্রেম , নাম - খুশির আগমনী , কলমে - গৌরী দাশগুপ্ত

নীল আকাশে  ছড়িয়ে আছে তুলা রাশি রাশি, মাতল ভুবন আনন্দেতে বাজিয়ে আলোর বাঁশি। মায়ের  অপেক্ষায়   উদগ্রীব যে প্রাণমন, কাশফুলেরা হিল্লোল তুলে জানায় মায়ের আগমন। মুক্ত সম শিশির বিন্দু মখমলের  ঘাসে, প্রাণ মন যে  পুলকিত  শিউলির  সুবাসে। সোনালী রোদ ছড়িয়ে পড়ে চতুর্দিকে, মাধুর্যময়  করে তুলতে সবুজ প্রকৃতিকে । ঢাকের আওয়াজ মনে তোলে যে আলোড়ন, দীন দুঃখী পায় না যে গায়ের নতুন  আবরণ । সাড়ম্বরে মাতৃপূজা  করলাম  নাইবা, সেই অর্থে করব  মোরা  দরিদ্র  সেবা। মা যে খুশী হবেন তাতে , সেটা মোরা জানি, মাতৃপুজার প্রেমে ,সবার মনে জাগবে আনন্দ ধ্বনি  ।

কালরাত্রি - মহা সপ্তমী স্পেশ্যাল - কলমে - দলছুট পাখি ( চম্পা সর্দার )

কুলি কামিনের ঘরের মেয়ে, কাঠ কুড়িয়ে দিন যায় তার আবার এত অহংকার! মাতব্বরদের চোখে ভালো ঠেকে না সাঁঝলির রকমসকম। কষ্টি পাথরে খোদাই করা নিটোল চেহারা, ছোট ছোট অথচ বুদ্ধিদীপ্ত দুটো চোখ, একঢাল কোঁকরানো চুলে শক্ত করে বিনুনি বাঁধা। গ্রামের কেন দূর গ্রামের যে কোন মানুষেরই চোখে পড়ে সাঁঝলির রূপ। ইবার হুল পরবটোতে তু আর লাচবিক লাই সাঁঝলি।  একটু জোর করেই ফুলমনি বলে কথাটা। পরবটোর পরেই তোর বিহা দিব বটে। আর কুতো দিন ওই খাতা বইটো লিয়ে ইসকুলে যাবি? পলাশবনির জীবনযাত্রায় নতুন কিছু খুঁজে পায় না সাঁঝলি। স্বপ্ন দেখে, কলকাতার কলেজ... উঁচু বিল্ডিং... ঠান্ডা ঘর...টিভিতে দেখা, সুন্দর ব্যাগ কাঁধে অফিস... উফফ, ভাবলেই যেন বারবার শিউরে ওঠে ও। আমি বিহা কোরবোক লাই। মুরে দুটা ভাত দিতে তুগো এত্ত অসুবিধা হইনছে? ঠিক আছে আর আইসবক লাই তুদের ঘরটোতে। বলে সাইকেলটা নিয়ে স্কুলে বেরিয়ে যায় সাঁঝলি। সারাদিন মনমরা হয়ে ক্লাসে বসে থাকে। টিফিনেও কারোর সাথে কথা বলে না। এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ও। খুব ভালো না হলেও মোটামুটি ভালোই রেজাল্ট করে আসছে এতদিন। সাড়ে চারটের ছুটির পর খুব ধীরে ধীরে সাইকেল নিয়ে বাড়ির পথেই রওনা হয় সে। র...

গৌরীর বোধন - দলছুট পাখি ( মহা ষষ্ঠী স্পেশাল )

- ফির ম্যাঘ করছে! আইজ মাছ ধরতে বাইড়ান লাগবো না। জিগাই, কতাডা কানে গ্যালো না কি? - না রে পতিমা, এহন কতো ট্যাকা লাগবো বল দিকিনি? তুই ভরা মাসের পোয়াতি। কয়দিন পর ঘর আলো কইরা একখান চান্দ আইবো... - হ, তা বইলা এই বাদলায় তোমারে আমি যাইতে দিমু না নদীতে। আমার শরীলডাও ভালো ঠেকতাছে না। - তুই চুপ মাইরা শুইয়া থাক পতিমা, ঢিলা দে শরীলডা। বিন্দা পিসিরে কইয়া যাইতাছি রাইতে তর কাছেই শুইবো। কহন কি দরকার লাগে। সুন্দরবনের খালবিলের জলা জীবন যাপনের এক দাম্পত্য জীবন প্রতিমা আর উমেশের। আট বছর পর সুখের মুখ দেখতে চলেছে ওরা। অনেক ঠাকুর দেবতা মানত করে প্রতিমার কোল ভরেছে, শুধু নতুন একটা সূর্য দেখার অপেক্ষা। বিন্দা পিসিকে রাতে প্রতিমার কাছে শুতে বলে উমেশ চলে যায় ছোট ডিঙিখানা নিয়ে মাছ ধরতে। বিকেল থেকে টিপটিপ বৃষ্টি শুরু হয়েছে। নদীতে যাওয়ার পথে মিত্তির বাড়ির দুর্গা দালানে দাঁড়িয়ে করজোড়ে প্রণাম জানায় উমেশ। - ঠাকুর অনেক দয়া তোমার। আমাগো মাটির ঘরে হাসি আনছো। তুমি দেইখ্য পতিমারে। আইজ ষষ্ঠী, মা গো... একখান বাচ্চার মুখ দেখাও আমাগো। জয় মা... -ও বউ... জিগাই অবেলায় অমন শুইয়া আছিস ক্যান। উমা কইয়া গ্যালো তর কাছ...

বোধনে বিসর্জন - দলছুট পাখি

-এই আস্তে আস্তে, আর একটু নীচু কর... -আরে গেটের মাথায় যেন না ঠেকে। - ও রুনু দা একটু একটু বাদিকে। উফফ কাজের সময় এতবার কে ফোন করছে! যতদিন ফোন ছিল না ভালো ছিল। কথাগুলো ভাবতে ভাবতে বা দিকটা সামলে নেয় রুনু। দশ জন জোয়ান বাহকের কাঁধে চেপে দশভুজা প্রবেশ করেন মণ্ডপে। আজ পঞ্চমী, বেশ কয়েকটা প্যান্ডেলেই পৌঁছে দিতে হবে জগৎজননীকে। মিত্রপাড়ার মণ্ডপে ঠাকুর নামিয়ে দশটা ঘর্মাক্ত শরীর একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। প্যান্ডেলের বাইরে একটু জিরিয়ে নেবার জন্য বসে পরে বেল গাছটার পাশেই। কাল সকালে ষষ্ঠী পুজো হবে এখানেই। বেশ বিরক্তির সঙ্গে রুনু বলে- - দেখো হয়েছে এক ফোন। পুজো কর্তারা সব ঠাকুরের সঙ্গে সেলফি তুলতেই ব্যস্ত। কোথায় আমাদের টাকাটা মিটিয়ে ছেড়ে দেবে, তা না! এই রফিক যা না, গিয়ে বল না আমাদের ছেড়ে দিতে। পটা দা বাড়ি যাবে কবে তুমি? পটা একটা বিড়ি ধরিয়ে দীর্ঘ ধোঁয়া ছাড়ে... - যাবো রে রুনু। ছেলে মেয়েদের নতুন জামা কিনে দিতে পারিনি এখনো। কাজ কয়েকটা শেষ করেই ভাবছি কালই ট্রেন ধরবো। - সে তো ঠিকই। বছরে এই সময়টাতেই তো একটু যা ঠিক মতো রোজগার। নয়তো মাটি কাটা, রাজমিস্ত্রীর জোগারের কাজে কি আর ইনকাম বল! -...

খোঁজ - মীরা ব্যানার্জ্জী

খোঁজ - মীরা ব্যানার্জ্জী বিধ্বংসী স্তুপ থেকে মুক্ত ছোট্ট মেয়েটি ঘুমিয়ে ছিল, তখনও জাগেনি আমি চেয়েছিলাম আরো একটু সময় ও ঘুমাক কিন্তু তা হয়নি। ক্ষতবিক্ষত শরীরটা ওকে ঘুমাতে দেয়নি ! ব্যথায় সে জেগে উঠলো। ছোট্ট চোখে দেখে , সামনে বিশাল ধ্বংসস্তূপ। জেগে উঠে হয়তো মাকে জড়িয়ে ধরতে চেয়েছিলো পাইনি। পায়নি বাবা , দাদা, দিদি, কাওকেই। শুধু দেখলো একরাশ অচেনা মুখ ওর দিকে চেয়ে আছে। সে চোখটাকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে খুঁজে বেড়ালো  মাকে যদি পাই। সে চোখে কান্না ছিল না। ছোট্ট চোখে শুধুই ছিল খোঁজ.... ( copyright reserved )

মুক্তির বোঝা - কলমে দলছুট পাখি

 মুক্তির বোঝা .....দলছুট পাখি উফফ, যা জিনিসপত্রের দাম! ভাবতে ভাবতে বাজার থেকে ফিরছিলাম। আজ যেন বাজারের ব্যাগটা খুব ভারী মনে হচ্ছিল। নামিয়ে রাখলাম একটা পাঁচিলের পাশে। আগে একসাথে এখানে এত লোকের মেলা কখনো চোখে পড়েনি তো! তবে কি কারণ! এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ! পর পর পাঁচটা শবদেহ সাজানো রয়েছে। ফুলে, ধূপে, খোল, কীর্তনে গমগম করছে চাতালটা। একটু এগিয়ে গিয়ে দেখি, চারিদিকে ফিসফিস আলোচনা- কৌতূহলের বশে একজনকে জিজ্ঞেস করি- আচ্ছা দাদা, ব্যাপারটা কি? একই পরিবারের মনে হচ্ছে... জনৈক উত্তর দিলেন, ব্যাপারটা খুবই সাধারণ, বউটা একটা কুলটা, কোথায় কি ফষ্টিনষ্টি করতো ঠিক নেই। কাল রাতে বাড়ি ফিরে ওর স্বামী বউকে, সাথে বাবা, মা, মেয়েটাকেও বিষ খাইয়ে নিজেও খেল। আর একজন এগিয়ে এসে জানায়, আরে ওই বয়স্থা মেয়ে। বিয়ে হচ্ছে না, এদিকে পেটে বাচ্চা! তা আর পরিবার কি করে? মেয়েটাকে বিষ দিয়ে নিজেরাও নিল। একজন বৃদ্ধের মন্তব্য, বাবা এই তো দিনকাল! এই বুড়ো বাপ মাকে নিয়েই নিত্য ঝামেলা। কতদিন টানবে? তাই ছেলে, বউ মিলে ওদের খাবারে বিষ দিল। পুলিশে ধরা পড়ার ভয়ে মেয়েটাকেও খাইয়ে নিজেরা খেল। মাথার ভেতরটা ঝনঝন করতে লা...

বুলবুল - আব্দুস সালাম দৌলতী

বুলবুল   - আব্দুস সালাম দৌলতী আব্দুস সালাম দৌলতী হারিয়ে সাথী দিবা রাতি খুঁজি সে বুলবুল? আজ একেলা মন উতলা খুঁজে ফিরি তোমারই তুল। ঘুমের মাঝে কানে বাজে শিকল ভাঙা সেই গান, বিশের বাঁশী সর্বনাশী হৃদে তোলে ঝড় তুফান। গানের পাখি দিয়ে ফাঁকি অচিনপূরে গড়লে নিবাস মনের মাঝে সে সূর বাজে দিন হপ্তা বারোমাস। এসো ফিরে কুট্টিত দুয়ারে মজলুম করে ফরিয়াদ বিদ্রোহী তুমি কাঁপিয়ে ভূমি ছিনে আনো মসনদ। বদ্ধ ঘরে বদ্ধ জাতী ঘুমিয়ে আছে নেশায় মাতি আচ্ছা করে চাবুক মেরে জাগিয়ে তোলো এই রাতি। তপ্ত বুলেট? তবু নহে হেট, চির উন্নত শির- কলম যুদ্ধ! করেছে তব্ধ, ভেঙেছে ওদের স্বপ্ননীড়। জেল জুলুম হুলিয়া দিয়েছো দুরে ঠেলিয়া, তবু নেই শঙ্কা, মিথ্যা তাড়াতে সত্যের পথে বাজিয়েছো রণ ডঙ্কা। ওহে বুলবুল গাহ অনুকুল নব জোয়ারের গান উঠুক জেগে বিদ্যুৎ বেগে, এই বিশ্বভরা প্রাণ। এ ধরাতে আবার বাজুক শেকল ভাঙার গান নার্গিস ফুলের সৌরভে খুঁজি মানবতার পীঠ স্থান।

ফরিয়াদ - দলছুট পাখি

 ফরিয়াদ .....দলছুট পাখি ফিরে যেতে চাই বারবার ওই লাউ মাচার উঠোনে- রাতের শিশির যেখানে লিখে রাখে একা রাত্রির অমনিবাস, মৃত শামুকের দীর্ঘশ্বাস ভরা বুকে- নোনা স্বাদ অহরহ ফরিয়াদ। ঠিকানা ভুলেছে গোপন ষড়যন্ত্র, শুধু অতীতের স্মৃতি আলাপন রডডেনড্রোনের বুক জুড়ে- ফিরে যেতে চাই শুধু একবার... প্রতিশ্রুত সেই নিকোনো উঠোনের দ্বারে। রাতজাগা পাখি আমি আঁধার পথেই খুঁজি আলোর পথের ঠিকানা; ফিরবো কিনা ওই ছেঁচি, শুশনির পাড় ধরে কোনোদিন নিজেই জানিনা। লাল ছিল সেই পলাশের পথে, সাথে মাধবীর ঘ্রাণ- হারিয়ে গিয়েছে কোনো এক অজানার ঝড়ে পাখির এই প্রাণ। দলছুট হয়ে ফিরি ওই পাহাড়ের কোল থেকে আকাশের নীলে; মৃত শামুকে বুকে গুনি সুনামির ঢেউ, ওই শান্ত সলিলে। শিউলি বিছানো উঠোন আজও টানে, টানে সন্ধ্যা তুলসীর শাঁখ- জানিনা এ ফরিয়াদী জীবন কখনো খুঁজে পাবে কিনা সেই ভুঁইচাঁপার বাঁক! ©দলছুট পাখি @champa sarder

নাগাসাকি দিবস

 ৯ই আগস্ট ১৯৪৫  নাগাসাকি দিবস .....দলছুট পাখি চলে গেল আরও লক্ষ প্রাণের শিখা... উদ্ধত অহংকারের বিস্ফোরণে ধূলিসাৎ নাগাসাকি। ক্ষমতার বর্বরতায় পিশাচের হাসি, ধূর্ত নেকড়ের লোভাতুর লালা, ডলারের গরিমায় অন্ধ ভগবান- জ্বালাময়ী হেমলকের বিষ রাশি। যতটুকু বাকি ছিল শ্মশানের মেলা- পূর্ণ হলো ওই মোটা লোকটার জন্য, গরিমার মুখোশে দেবরাজ আসলে পুরোটাই জঘন্য বর্বর আদিম  বন্য। শ্মশানের মাংস পোড়া গন্ধ চারদিকে- থেকে থেকে শেয়ালের ভয়াল আর্তনাদ, দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের রণভেরি উল্লসিত- সাগরের প্রশান্তিতে দ্বীপের দীপ্তি বরবাদ। জেনে রাখ তুই বিভেদের গন্ডি রেখা- মহাকালের বিচারে কখনো ক্ষমা পাবি নাকি?

পুষ্পাঞ্জলি - দলছুট পাখি

থ্যালাসেমিয়া এক মারণ ব্যাধি। সময় মতো রক্ত পরীক্ষা করান। গড়ে তুলুন থ্যালাসেমিয়া মুক্ত সমাজ। সকল ভাবি পিতা মাতার কাছে আমার একান্ত আর্জি। পুষ্পাঞ্জলি .....দলছুট পাখি আর তো বাকি কিছুদিন মা- পরাবে তো আমায় সাজ? লাল ফ্রকেতে সাজবো এবার চুলে বাঁধবো লাল ফিতে; না বোলো না যেন আবার তোমার থাক না যতই কাজ। পাঁচ বাড়িতে বাসন মেজে ঘরের কাজে ব্যস্ত মা। বুকের ভেতর শ্রাবণ ধারা চোখে ধূসর মরুভূমি; 'আজ তো সবে মহালয়া যা, এখন খেলতে যা।' মাগো আমার আবার কবে ওই রক্ত নিতে যেতে হবে? ভীষণ দুষ্টু ডাক্তার গুলো সূঁচ ফোটায় খুব জোরে; এবারেই কি শেষ বার মা আমার রক্ত নেওয়া তবে? মায়ের মুখে হাসির ঝিলিক তোর আর কষ্ট হবে না। এবারেই দেখিস শেষ বার ওই হাসপাতালে যাবার; হাসবি, খেলবি, স্কুলে যাবি আশীর্বাদ করেছে দুর্গা মা। মেয়ের চোখে স্বপ্ন হাজার দুলিয়ে বেণী লাল ফ্রকে। মণ্ডপে ওই ঢাক বাজছে পুষ্পাঞ্জলি দু হাত ভরে; এখানে ওখানে নবমী ভোগ দুর্গা ভাসান পুকুর পাড়ে। দেখতে দেখতে দিনটি এলো ষষ্ঠী ঘটে বোধন পূজা হবে। কাজের বাড়ি দিয়েছে ফ্রক হরেক রকম সাজের জিনিস; একটু যেন ক্লান্তি বেশি কি ঘটবে আজকে ত...

আমি - কলমে : সারদামণি মণ্ডল

ক্লান্ত আমি নিঃস্ব আমি ব্যস্ততার ভিড়ে স্তব্ধ আমি জীর্ণ আমি সমালোচনার জেরে। জাতীয় প্রশ্ন লোকজনের বিয়েটা কবে হবে? বয়স তো বেড়েই চলেছে ভালো বর কি জুটবে? কেউ কেউ আবার আমায় বড্ড ভালোবাসে পাত্র পক্ষের খোঁজ ও দেয় মুচকি মুচকি হেসে। কেউ বলে চাকরি টাই বা আর কবে পাবি? আমার প্রশ্ন ওনারা কি জেনে গেছেন সবই! কেউ তো জানতে চায়না আমি কেমন আছি? রোজ রোজ এত লড়াই কেমন করে বাঁচি? কত রাত জেগেই কাটে কেউ কি খবর রাখে? কদিনই বা ঘুমপরিরা চোখে স্বপন আঁকে! ভালো চাওয়ার দরকার নেই চুপটি করে থাকুন নিজের নিজের কাজগুলো মন দিয়ে করুন। আমার লড়াই এভাবেই  চলছে আর চলবে দেখা যাক রাত ভোর হয়ে সূর্য কবে উঠবে?

অনুগল্প - বিচার , কলমে - তাহিবুল আলম

অনুগল্প #বিচার #এবছর বৃষ্টির তেমন ধরণ নেই, তবুও আষাঢ়ের প্রথম সপ্তাহের পর নিয়ম রক্ষার্থে নেমেছে দুই চার ফোঁটা! সকাল থেকেই ঝরছে ঝিরিঝিরি, মেম্বার সাহেবের বৈঠকখানায় জনা তিরিশ বা তার অধিক সংখ্যক মানুষ উপস্থিত হয়েছে! হালকা উত্তেজনা রয়েছে, মাগরিবের নামাজ শেষ করে দলের মৌলবি সাহেব এসে পৌঁছলেন৷ একজন হাঁক দিয়ে বললো এই ভোলা চা দিয়ে যা, আজ খরচা সেলিম দেবে৷ বেচারা মানুষটি বৈঠকখানার এক কোনে হাঁটুর উপর মুখ দিয়ে বসে আছে৷ মৌলবি সাহেব তাগিদ দিলেন, " মোড়লরা কোথায়? আর অভিযুক্ত আনোয়ার কোথায়"? কেউ একজন বললো তাকে ডাক করা হয়েছে, আর বড় মেম্বার আসছে! ইতিমধ্যে সকলে এসে উপস্থিত, গ্রামের বড় মেম্বার এসে হাঁক ছাড়লো, " কি রে বল কি হয়েছে"? সেলিম বলল, মেম্বার সাহেব, আমার বেরোনোর রাস্তাটার একটু সমাধান করুন! বাকিরা গুনগুন করতে লাগল, মেম্বার সাহেব , এই সমস্যা গত দশ বছরে সমাধান হয়নি, এলাকার মোড়লদের কথা আনোয়ার মানেনি, এবার এটার একটা বিহিত দরকার! নিম্নস্থানীয়দের উদ্দেশ্য করে মেম্বার সাহেব বলল, অন্ধকার হয়ে আসছে, আমি বাড়ি গেলাম, তোরা একটু দেখ! সেলিম বুঝল এখানে আনোয়ারের স্ত্রীর পক্ষের প্রভাব খেটেছে,...

কাঁটাতারে গাঁথা মালা - দলছুট পাখি

কাঁটাতারে গাঁথা মালা ......দলছুট পাখি না মানে মানচিত্রের সীমা রেখা, না মানে কাঁটাতারের বেড়াজাল- অদৃশ্য হাতছানি, নিপাট ভালোবাসার ডাক; সময়ের দীর্ঘশ্বাসে পাখির ডানা মেলা উড়ান, আর পদ্মার ঘোলা জল- লিখে চলে বেনামি চিঠি, না রেখে কোনো ফাঁক । পাঁজরের আবডালে কি এক বেহাগী সুর তোলে পাতার বাঁশি- টিনের চালে একটানা শ্রাবণ ধারার টুপটুপ; আলপথে মেঠো সুরে বাউলের একতারা, ডাকে কার নাম ধরে- বিরহী রূপাই, সাজুর কবরের পাশে চুপ । বেনো জলে পাড় হয়, কালের অন্তিম ঘেটু ফুলের মায়ামাখা গন্ধ- কাঁটাতারে চাপা পড়ে হৃদয়ের নকশিকাঁথা; হাওয়ার কানে কানে ফিসফিস, আজন্মবধি পারাপার বিনি সুতোর মালা- নন্দিনী-ফিরোজের অদৃশ্য প্রেমের গাঁথা । ©দলছুট পাখি @champa sarder

পার্থক্য - কলমে বাপ্পাদিত্য পাল

কবিতার নাম - পার্থক্য কলমে- বাপ্পাদিত্য পাল """""""""""""""""""""""""""""""""" রঙচটা  ওই  স্কুল  বাড়িটা নীল  সাদাতে  চকচকে, একতল গুলো দ্বিতল আজ ,মোড়া শুধুই কংক্রিটে। সৌখিনতায় সাদামাটা সবুজও অনেক কমে গেছে , রং বেরঙের হাতেগোনা দু একটা ফুলের ঝাড়ি। স্কুল নামক সুখ টা এখন বেশিরভাগটাই চাতুড়িময়, অযাচিত উন্নতি হয়ত সুখের সত্য চেনাতেও অক্ষম । বারান্দা থেকে দুচোখ আর ধানের খেত চেনাই না , চোখ ধাঁধানো রঙিন গাড়ি রাস্তা জুড়ে, আর কাঁচে ঘেরা বাড়ি । টিফিনের ঘন্টা এখন খেলার মাঠে ডাকে না , এখন টিফিন মানেই মুঠোফোনে বন্দি আর খুঁজে বেড়াই প্রেম করার ফন্দি। তখন মাথা বেয়ে আর সর্ষের তেল ঝরা , চোর পুলিশ,  এখন লাল নীল চুল আর টিকটক বড্ড মানানসোয়ে । হম আজও মনে পরে জাতীয় সঙ্গীত- সারিবদ্ধ- নিশ্চুপ, কিছুটা হলেও ধরণ টা বদলে গেছে , হম ভক্তির কথা বলছি। আরে ভাই- বন্ধুদের সাথে সেই আড্ডা গুলো রাজুদার ঝালমুড়ি, না এখন নেই জানি - আছে তো হোয়াটসআ...

রথযাত্রা প্রগতিমাত্রা , কলমে দলছুট পাখি

## রথযাত্রা- প্রগতিমাত্রা  ## .....দলছুট পাখি এগিয়ে চলুক প্রগতির রথ সাধারণের হাত ধরে, রথের দড়িতে লাগাও টান অধিকারে ভর করে । জগন্নাথ, বল-ভদ্রের, সৌভাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় হোক জন জাতি মনে- সমাজ প্রগতির রথ সমান্তরালে চলুক সকল রাজা প্রজাগণে । বিভেদের পথে ধুলো আর নয় কোনো ঝাঁটা তুলে নাও হাতে;  মিথ্যে, জঞ্জাল সব সাফ করে দাও রাজতন্ত্র মুছে যাক তাতে । যুগান্তরের  ঘূর্ণিপাকের জাম ধরা চাকায় খুব তেল দাও আজ; গড়গড়িয়ে রথের চাকা চলতে থাকুক পড়ুক মিথ্যের মাথায় বাজ । ঘূর্ণি লাগুক কালচক্রের আবহমান কালে রথের রশিতে দাও টান ; শোষণ আর শোষিতের যাতাকলে পিষে হারিও না মান সম্মান । পূজো নয়, নয় পার্বন, নয় উৎসবের আবরণ, রথের রশিতে ওই লাগছে টান জয় জনসাধারণ । ©দলছুট পাখি @ champa sarder

বৃষ্টি ভেজা সেই দুপুরে , কলমে - দলছুট পাখি

## বৃষ্টি ভেজা সেই দুপুরে ## ......দলছুট পাখি তুমি যখন খবর দিলে মেঘ করেছে আকাশ জুড়ে আমি তখন বৃষ্টি ভিজে ফিরছি একা ঠিক দুপুরে । গুনগুনিয়ে গাইছিল মন জৈষ্ঠ্যে নামুক অকাল শ্রাবণ তোমার আমার শরীর জুড়ে প্লাবন আসুক ঠিক দুপুরে । হাত বাড়িয়ে বৃষ্টি ছাটে পুড়ছিল মন তখন দুপুর দেখব তোমায় দূরের থেকে বৃষ্টি পায়ে ছন্দ নুপূর। এমন ক্ষনের না হয় শেষ বৃষ্টি মাখা স্নিগ্ধ আবেশ আলতো হেসে এই দুপুরে ঝড় ওঠে বা এই নুপূরে ! মাতাল ঝড় ধেয়ে এল সঙ্গে গভীর বাজের আওয়াজ হঠাৎ করে পড়লো জোড়ে, ধুইয়ে দিল বৃষ্টির সাজ । তোমার কাছে আসবো বলে ছিলাম তখন আমায় ভুলে জড়িয়ে নিল বাজের আওয়াজ মেঘলা বেলার বৃষ্টির সাজ । কিসের এত চেঁচামেচি  কিসের এত কোলাহল ? তোমার কাছেই এইতো আমি কেন তবে চোখে জল? বৃষ্টি সাজে সাজিয়ে দিয়ে আমায় কোথায় যাচ্ছ নিয়ে ? কেন সবার এত কৌতূহল ? তোমার চোখে শ্রাবণ জল ! আসবো আবার বৃষ্টি হলে তোমার উঠোন জুড়ে ছন্দে নূপুর বাজবে পায়ে মেঘলা দিনে সেই দুপুরে । বাসবো ভালো মনের মতো আদর দিও বাকি যত বৃষ্টি হয়েই পড়বো ঝরে মাতাল ঝড়ের সেই দুপুরে ।। ©দলছুট পাখি @champa sarder

গল্পের নাম - আনন্দি , লেখিকা- তাপসী ঘোষ (বেখেয়ালী)

Writer - Tapasi Ghosh - ও কাকি, চোখ দিয়ে জল গড়ায় ক্যান? - মনখান কান্দেরে পরাণ - ক্যান? - নদীর কূল’খান ডাক দেতেছে। কিন্তু শরীলডায় বড় জ্ব--র। রেতে জ্বর এয়েছিলো। এহনও শরীলডায় গরম। কি করে যাই ক’দিনি? তাইতো মনখান কান্দেরে পরাণ। মন ব--ড় কান্দে। একটা তিতো হাসি দিয়ে বলল পরাণ মাঝি- নদীর কূল! ও কাকি, ভরা বর্ষা! কূলের মাটি ভাঙতেছে রোজ এট্টু করে। সরতি সরতি গ্রামের মানুষগুলোর বাস এককোণে এসে ঠেয়েছে। দেহো, ঐ’কূলও থাহে ক’দিন! জেনে রাহো কাকি আমাদের শ্যাষ ঐ নদী গব্বেই। -ও’কথা কোস নে পরাণ। ও’কথা কোসনে। -ক্যান কবনা? আমাদের জেবন’তো জেবন নয়গো। পেত্যেক বার ভোটখানের সময় নেতারা কত আশ্বাসখান দিয়ে যায়। তারপর সব ফুরুৎ। রাক্ষুসী নদী ঐ ময়ালিনীর প্যাটখানাও কত্ত বড়ো! গবগব করে খেতেছে। রোজ জলের ধাক্কায় কূল ভাঙতেছে আর ভাঙতেছে। আনন্দি রুগ্ন হাতখানা পরাণের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, ধরদিনি আমায়। নিয়ে চলদিনি ঐ কূলে। দেহি কত বড় সাহসখান ঐ রাক্ষুসীর! আমার প্যাট নিল। সিঁদুরখান মুছলো। যে শাউড়ী আমায় বুক দিয়ে আগলাতো তাঁরেও খ্যালো। বাকি আমি। ‘খা আমারে’ কই ময়ালিনীকে; ‘কিন্তু গ্রাম উজাড়ের সাহসখান দেখাসনে’। রোজ ময়ালিনীর কূলে দাঁড়া...

চেতনা - সৌমী রাহা akhuli

জীবনদার "মেডিকেল স্টোর" খুব বিখ্যাত। এখানে জীবনদায়ী ওষুধের থেকে নেশার ওষুধ বেশী পাওয়া যায়।পাড়ার লোকেরা সেই জন্য খুবই অসন্তুষ্ট। হাজার বারণ সত্ত্বেও শোনেনা। নেশার ওষুধ বিক্রি করেই তিনটে বাড়ি আর চারটে গাড়ি কিনেছে। বাবার অজান্তে একমাত্র ছেলে ও মারাত্মক নেশাগ্ৰস্ত। ব্যাবসা দেখাশোনার অজুহাতে মাস খানেক দোকানে বসতো।আজ তার প্রাণ সংশয়।বিকেলে ডাক্তার জবাব দিয়ে গেছে। অর্থের লোভে কত জীবনকে নেশার দিকে ঠেলে আজ জীবনদার চেতনা ফিরেছে। শত চেষ্টাতেও শেষ রক্ষা করতে পারল না।

ভৌতিক গল্প - " গলাকাটা লাশ" , কলমেঃ সনাতন কুন্ডু

বাড়ির কাজের জন্য দেরী হয়ে যাওয়ায় শেষ বাসে দিদির বাড়ি যাচ্ছি ।যখন নিশিপুর স্টপেজে নামলাম তখন প্রায় রাত্রি ১২টা বেজে গেছে।জনশূন্য নিঝুম রাত।ঘুটঘুটে অন্ধকার ।বাস থেকে নেমে মেটো পথে হেঁটে চলেছি ।রাতের ঝিঁ ঝিঁ পোকা আর শেয়ালের ডাকে ভয় লাগছিল ।যেতে যেতে একটি শ্মশানঘাট পাড় হচ্ছি।বুকটা দুরদুর করছে ।হঠাৎ কানে একটা আওয়াজ এলো " আমাকে বাঁচাও,আমাকে বাঁচাও "।শব্দটা কানে আসতেই আমি চমকে গেলাম ।মনে হলো শ্মশানের দিক থেকেই যেন আওয়াজটা আসছে ।একটু দাঁড়িয়ে ভালো করে শুনলাম।কিন্তু সেই একই আওয়াজ " আমাকে বাঁচাও, আমাকে বাঁচাও "।এবার আমি তো ভয়ে আধমরা হয়ে গেছি ।এত রাতে এই শ্মশানে আর কে ডাকবে, নিশ্চয়ই ভূত।পুকুরের ওপার থেকে আলোর আভাসে দেখি সে এক অদ্ভুত দৃশ্য ।সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এক গলাকাটা লাশ ।দেখেই আমি মারলাম সজোরে দৌড়।এক দৌড়ে একেবারে দিদির বাড়ির সামনে । তড়িঘড়ি করে দিদির বাড়ির দরজায় টোকা মারলাম।কিছুক্ষণ পর ভিতর থেকে জামাইবাবু বেড়িয়ে এলো ।আমায় জিজ্ঞাসা করলো," কী ব্যাপার, এত রাতে?"।আমি বললাম, " শেষ বাসটা খুব দেরি করেছ,তাই "। ভিতরে যেতেই আমার কম্পিত স্বর শুনে দিদি জিজ্ঞাসা করল...

ছোটগল্প - " মূল্য " by Jayanta Adhikari

WRITER - JAYANTA ADHIKARI অবশেষে সব যন্ত্রনার অবসান হল, ভোরে , সাড়ে চারটের সময়! শেষ চার চারটে মাস ধরে বার বার হসপিটাল - ঘর - অফিস - হসপিটাল - ওষুধ - ডক্টর - নিদ্রাহীন রাত - ক্লান্ত সকাল; ওহ, আর যেন পারছিলাম না টানতে। বার বার মনে হতো, কবে শেষ হবে এই যন্ত্রনা ? কবে পাবো আবার ফিরে, নিশ্চিন্ত দিনগুলো ? ++++++++++ আট মাস আগে, রুটিন চেকআপের সময়েও কোনোকিছুই ধরা পড়েনি। সব রিপোর্ট নিয়ে যখন ডক্টরের সাথে কথা হলো, ডক্টর বলেছিলেন, "সবকিছু নর্মাল, প্রেসারটা একটু বেশির দিকে, তবে এই বয়সে এরকম একটু হতে পারে। সেটা খুব একটা চিন্তার কিছু নয়। আর আপনার বাবার রাতে মনে হয় আজকাল একটু কম ঘুম হচ্ছে, তাই না ? যদি ঘুমের খুব সমস্যা হয়, ওনাকে এই ওষুধটা দেবেন। আসলে এই সত্তরের কাছাকাছি বয়সে, রেস্টের ও তো দরকার আছে। তবে..... " বাবার দিকে তাকিয়ে ডক্টর বলেছিলেন, "সিগারেট কমাতেই হবে আপনাকে আঙ্কেল। দিনে দু প্যাকেট সিগারেট, খুব খুব খারাপ। " এর পর সব ঠিক ছিলো। হঠাৎ দু সপ্তাহ পরে, বাবার প্রচন্ড ব্যথা শুরু হয় পেটের ভেতরে , বেশ কয়েকবার বমিও করে , সাথে বেরোয় রক্ত। তাড়াতাড়ি ভয় পেয়ে, ডক্টরে...

আগামী উপন্যাস - দেবাশিস রায়

একটি সদ্যজাত.... আর তার নাভি-মূল....  অকারণ উৎপাটিত। একটি স্নিগ্ধ প্রভাত.... সহসাই প্রতিকূল..... ক্ষণিকের মেঘে কলুষিত। একটি শানিত ছুরি... আর ঘাতকের পাশব উল্লাস... নির্মম মন-ভূমে বসবাস। এখনো গুপ্ত -ঘাতক... চোরাগোপ্তা রাতের অন্ধকারে... ঘুরে আসে ইতিউতি পথ ধরে। লড়াই এবার নতুন করে... নতুন হাতিয়ারে,নব কলেবরে মায়াময় স্নিগ্ধতার আগামীর' বছরে। সেই রণে, সেই ক্ষণে, সপ্তরথী স্তব্ধ হবে..... নতুনের পথে নব-বিন্যাসে নব চেতনার স্বাদ আগামী -উপন্যাসে।

রবির কিরণ - শিপ্রা কর্মকার

copyright reserved

" মৃত্যু পথযাত্রী " by Soumi Raha akhuli

writer - Arifa Rahman ( copyright reserved )

স্মরণে পায়েল খাঁড়া by Payel Banerjee

copyright reserved !

স্মরণে পায়েল খাঁড়া by Padmaboti Mondal

copyright reserved 

Poem by Malay Mukherjee

copyright - Malay Mukherjee, Arghya Mukherjee, MS Office, মৃত্তিকা  (কল্পনার তুলিতে আঁকা ) and Mri Kalpana

Monikanta Sar

copyright - Monikanta Sar, মৃত্তিকা  (কল্পনার তুলিতে আঁকা ), Mri Kalpana, Arghya Mukherjee, MS Office

Shipra Karmakar

copyright - Shipra Karmakar, মৃত্তিকা  (কল্পনার তুলিতে আঁকা ), Mri Kalpana, Arghya Mukherjee, MS office, join our group today and be a part of our family -  www.facebook.com/groups/mrittika.group/

Subhadeep Pal

copyright - Subhodeep Pal, মৃত্তিকা - কল্পনার তুলিতে আঁকা, Mri Kalpana, Arghya Mukherjee, MS Office

Sujit Kumal Pal

Copyright - Sujit Kumar Pal, মৃত্তিকা - কল্পনার তুলিতে আঁকা, Mri Kalpana, Arghya Mukherjee, MS Office

বীর শহীদ

copyright - Rajani Banerjee, মৃত্তিকা - কল্পনার তুলিতে আঁকা, Mri  Kalpana, Arghya Mukherjee, MS Office

দেশমাতৃকা ও ভারতের বীর সৈনিক দের প্রতি প্রণাম ও শ্রদ্ধা জানিয়ে মৃত্তিকা (কল্পনার তুলিতে আঁকা ) তথা মৃ-কল্পনা এর বিশেষ নিবেদন - " অপেক্ষার অবসান "

দেশমাতৃকা ও ভারতের বীর সৈনিক দের প্রতি প্রণাম ও শ্রদ্ধা জানিয়ে মৃত্তিকা (কল্পনার তুলিতে আঁকা ) তথা মৃ-কল্পনা এর বিশেষ নিবেদন - " অপেক্ষার অবসান "  ভিডিও লিংক -  https://youtu.be/Yem8TQXJUK4 কলমে - মৌমিতা মেঘ  কণ্ঠে - চম্পা সর্দার আবহে - বজরঙ্গ স্টুডিও , সি.এস, CS Image - Google GIF - Google পরিচালনায় - অর্ঘ্য মুখার্জ্জী * ভিডিও টি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করুন * 

" ঝরা পাতার কথা " , Jhorapatarkotha by মৃত্তিকা ( কল্পনার তুলিতে আঁকা ), Mrittikaparibar

প্রকাশিত হলো মৃত্তিকা পরিবারের ওয়েব ম্যাগাজিন " ঝরা পাতার কথা " , প্রত্যেক সদস্যদের ধন্যবাদ যারা এই এগিয়ে এসে ম্যাগাজিনটিকে সফল করতে তাঁদের অসামান্য অবদান রেখেছেন ,      ধন্যবাদ তাদেরও যারা ম্যাগাজিনের বাইরেও ফেসবুক গ্রুপ অথবা অন্যান্য স্থানে মৃত্তিকাকে উর্বর করে চলেছেন ক্রমাগত      আরও এগিয়ে আসুন, আর ম্যাগাজিনে নিজের লেখা দিতে নিম্নের মেইল এড্রেসটিতে যোগাযোগ করুন -  mrittikaparibarmagazine@gmail.com ম্যাগাজিনটি ডাউনলোড করতে নিম্নের লিংক টিতে ক্লিক করুন ( সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ) - https://drive.google.com/file/d/1UJHBmBEUq1plbRdAKnqhyYhSwKb0D3mZ/view?usp=sharing   https://drive.google.com/file/d/1UJHBmBEUq1plbRdAKnqhyYhSwKb0D3mZ/view?usp=sharing copyright reserved  © Tapas Mahapatra, Amitav Mir, Tuhina Sultana, Ajay Kumar Datta, Roddhur Raychowdhury, Ananya Bandopadhyay, Kaberi Mukherjee, Aryatirtha, Moumita Megh, Pratap Kundu, Shree Bhattacharya Dey, Soumi Sankhari, Debasis Ray, Champa Sarder, Soumen Das, Mouli Ban...