Skip to main content

Posts

Showing posts from July, 2020

অবাক কান্ড - শ্রী অমিতাভ কর

অবাক কান্ড বটে , যুদ্ধে যাদের হয় গো যেতে , যুদ্ধ তারা চায় না ॥ আয়েস করে ঘরের কোনে , রণাঙ্গনের স্বপ্ন বোনে , মারতে রাজা দাবার চালে যুদ্ধ করার বায়না ॥ মরলে ক'টা তরতাজা প্রাণ , জড়িয়ে দিয়ে রক্ত নিশান , ছাড়তে গরম বাক্যের বাণ , কিস্যু এসে যায় না , ওদের ......কিস্যু এসে যায় না  ॥ যুদ্ধে যারা বাধ্য যেতে তারাই যুদ্ধ চায় না !! দাবার বোড়ের চাওয়া না চাওয়া মর্যাদা তাই পায়না ॥ 

গল্প - ‘দেখা হোলো’ - তাপসী ঘোষ(বেখেয়ালী)

Writer - Tapasi Ghosh জীবনরথে জীবন পথে চলছি তো চলছি। ক্লান্ত আমি। ক্লান্ত মন। মন বিশ্রাম নিতে চায়। ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়লাম শিলংকে সামনে রেখে। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের সাথে অবশ্যই রইল ডাইরি পেন। ভার মনে বহুদিন লেখা থেকে বিরত। যদি প্রকৃতির কোলে বসে কোনো গল্প মনে আসে! ধরে রাখতে চাই কল্পনাকে ডাইরিতে। - আপনাকে ভীষণ চেনা লাগছে! দেখেছি কোথাও। কামরূপ এক্সপ্রেসে আমি এখন। গৌহাটী হয়ে শিলং যাবো। এই প্রথম একা কোথাও বেরিয়ে পড়া। বেশ লাগছে। খুশি মনে ডাইরি পেন হাতে আমার। ভাবছি কি লিখি কি লিখি! এমন সময়ে ঐ উক্তি কানে এলো। মুখোমুখি সিট্, ভদ্রোলোক এবং আমি। উনি কথাগুলো বলছেন আমাকে উদ্দেশ্য করে। বেশির ভাগ পুরুষেরাই অচেনা মহিলার সঙ্গে আলাপের পথ খোঁজে এমনই কথায়। আমি বিরক্ত। বললাম - স্টেশন থেকেই নজরে রেখেছেন। চেনাতো মনে হবেই।  উচ্চহাস্যে নির্লজ্জের মতো বলে বসলেন - নজরে রাখার জিনিস তাইতো নজরে ছিল। বিব্রত আমি। ট্রেনের কামরায় আরো মানুষ আছেন, শুধু উনি আর আমি তো  নই! তাই প্রশ্রয়ের বদলে চোখে মুখে বিরক্তি ফুটিয়ে বললাম - একজন অচেনা মহিলাকে এইভাবে বলাটা ঠিক নয়। আশ্চর্য! আমার বিরক্তিতে কোনো হেলদোল নেই...

অভিনয় - মনিকান্ত

অথচ সবাই জানি ফিরে যেতে হবে একদিন। নিয়ে যেতে পারবো না কিছুই - শূন্য হাত, বিবস্ত্র দেহ, ধোঁয়াটে আকাশ... পড়ে থাকা বলতে শুধু কয়েকগুচ্ছ অপ্রাপ্তি, জমানো কিছু অভিমান, আর হাজারো ভিড়ের মধ্যেকার নিঃসঙ্গতা। তবুও যেকটা দিন অস্তিত্বের অজুহাতে থাকা- সেখানেও ভীড় করে আসে "আমিত্ব", যা কিছু ভালো - মন্দে মিশে থাকে "আমি" , যা কিছু প্রাপ্তি - অপ্রাপ্তি'তে মিশে থাকে "আমার" - নামক এক উদ্বায়ী শব্দের মোহ।। অথচ, এটুকু বাদ দিলে বাকি সবই অভিনয়.....

সুপ্রভ শব্দের টানে - অমিতাভ মীর

Poet - Amitav Mir  মাথার ওপর ঝরে পড়ে জ্বলন্ত শব্দপ্রপাত, এক এক করে মুহুর্তেই গাঁথা হয়ে যায় শব্দমালা, ক্ষুব্ধ, প্রেমময়, প্রাণীত, অশ্রুত, অনাদৃত, এমন কি; রাজ্যের অচ্ছ্যুত যত শব্দ সমাহার ভীড় করে থাকে। ভালোবাসার কিছু শব্দ আমি অসময়ে এড়িয়ে চলি, কেননা এখন এ তল্লাটে দুর্যোগের ঘোর ঘনঘটা, ঐকান্তিক কামনার সুপ্রভ শব্দের জালে বন্দী থেকে; প্রেমকুঞ্জে অভিসারে যেতে পারে না কোন প্রেমিকবর। যে শব্দ মুখে এলেই নেমে আসে অত্যাচার নিপীড়ন, যে শব্দের কোরাসে শাসকের মসনদে লাগে কাঁপন, নিমেষে একটি সুবর্ণ ভূখণ্ড হয়ে যায় অগ্নিকুণ্ড; শাসকের নধর গলায় দোল খায় লাখো নরমুণ্ড। সেই সুপ্রভ শব্দের টানে- বুকের টকটকে রক্ত অকাতরে দান করেছে পিতা, বুকের একমাত্র সন্তান বলি দিয়েছে স্নেহময়ী মা; লুণ্ঠিত হয়েছে প্রিয় বোন, বধু ও প্রেয়সীর সম্ভ্রম। আমি সে সৌভিক শব্দের টানে দিগন্ত কাঁপিয়ে তুলেছি, সেই অধরা শব্দটা এই হাতের মুঠোয় এসে গেলে, এক পৃথিবী ভালোবাসা আমার বুকে বাসা নেবে; আমিও সেদিন অভিসারী হবো তোমার কুঞ্জবীথিতে। এই রাজ্যের সব অন্ধকার একদিন বিদীর্ণ করে, অরুণ পথে আসবে নতুন প্রভাত অগ্নিরথে, বৈজয়ন্তী তুলে কণ্ঠ...

আষাঢ় এলো দ্বারে - দীপক পাল

Poet - Dipak Pal  এসেছে আষাঢ়         সাজিয়ে পসার             ভরেছে বৃষ্টির ডালা। মাঠ ঘাট আজি       ভরে গেছে সবি             ভরে গেছে নদী নালা।। ঝির ঝির  করে        বৃষ্টি যে ঝরে               হলো আজ দুই দিন। চাতক পাখি           করে ডাকা ডাকি          নাচিছে তা ধিন্ ধিন্। মনের হরষে         মাটির পরষে          মাঠে চাষি করে চাষ। মাছ গুলি জলে      এঁকে বেঁকে চলে        পুকুরে চড়িছে হাঁস।। নীড় হারা পাখি     করে ডাকাডাকি        কোথা ভেসে গেছে ছানা। কেমন করে         যাবে সে উড়ে       বৃষ্টি ভেজা তার ডানা।। চারিদিকে জল             করে টলমল      ...

তিন চার বা ছয়মাস পরে - আর্যতীর্থ

Poet - Dr. Arya Tirtha  তিন চার বা ছয়মাস পরে, আমাদের প্রত্যেকের কাছে কয়েকটা ভাইরাসের গল্প থাকবে। ভয়ে পালানোর গল্প, আতঙ্কে ভুল বোঝার গল্প, বন্ধুকে দুঃসময়ে হাত না বাড়ানোর গল্প এবং দুর্বিনীত মৃত্যুর অকস্মাৎ শিকারের গল্পগুলোর পাশাপাশি সেখানে থাকবে, রুখে দাঁড়ানোর গল্প, অচেনাকে সাহায্য করার গল্প, সেবা ও ভরসা জোগানোর গল্প , কারো অবিশ্বাস্য ভাবে ফিরে আসার গল্প। তুমি ও আমি কোন গল্পে কি চরিত্রে থাকবো, সেটাও কিন্তু ঠিক করতে হবে এই তিন চার বা ছয়মাসেই। এ যুদ্ধে শহীদ হবে কম লোকই, কটা দিন সীমান্তে কাটিয়ে, শতকরা নিরানব্বই ভাগ বাড়ি ফিরে আসবে ‘জিতে গেছি’ বলে। কিন্তু যে গেছে আর যে এলো ফেরত, সে দুটো মানুষ এক হবেনা কখনো। চেনা পাড়ার অচিন বিরোধিতা, ভরসা করা মানুষগুলোর আতঙ্কিত অসহযোগ, অস্পৃশ্যতার নতুন সংজ্ঞায় পরিজনদের বিচ্ছিন্নতাবাদী ফতোয়াগুলোর সাথে, তার অভিজ্ঞতায় থাকবে  ‘ভালো হয়ে যাবে’ বলে রোজ আসা ফোনকল, আপাদমস্তক আবৃত মানুষজনের গ্লাভস পরা ভরসার ছোঁয়া, আধাচেনা ক্লাবের ছেলেদের সংসার চালাতে অযাচিত সাহায্য। এই সব মিলে মিশে, সমস্ত জ্বরফেরত সৈনিক অন্যতর মানুষ হবে , পরিস্...

বৃষ্টিবেলা - সারদামণি মণ্ডল

মনে কি পড়ে... সেদিনের সেই বৃষ্টিবেলা'র কথা আকাশ ভাঙা বৃষ্টিতে ভিজে ছিল সব। হঠাৎ করেই আঁধার চারিপাশ কালো মেঘে ছেয়ে গেল আকাশ ঝমঝমিয়ে কোথা থেকে বৃষ্টি এল তেড়ে আমরা দুজন কেবল অসহায়। আমি তখন তোমার বুকেই নিয়েছি আশ্রয় আঁকড়ে ধরে ভরসা দিলে তুমি ততক্ষণে কাকভেজা দুটো শরীর মন চোখের পাতায় শুধুই জলের রেখা দূরের সবই মিথ্যে ভীষণ এখন সত্যি কেবল শুধু তুমি আমি। কী অপরূপ সেই বৃষ্টিবেলা স্মৃতি গুলো ভীষণ অমলিন। আজ ও যখন ঝরে অঝোর ধারা মনকেমনের জানলা ধারে আমি ব্যাকুল ভীষণ আমার প্রাণ মন আমার কথাই ভাবছো তবে তুমি? 

ভুল - সোমনাথ সিংহ রায়

একটা যাচ্ছেতাই ভুল করেছি আজই এমন ভুলতো ইদানিং আকচারই করি সর্টকাট রাস্তা ভেবে অযথা ঘুরেফিরে কানাগলিতেই যে প্রতিদিন হাতড়ে মরি ঠিক এখানে একটা খোলা রাস্তা ছিল বরাবর চলে গেছে একদম অন্যদিকে এখন দাঁড়িয়ে আছে এক পেল্লায় বাড়ি যেন অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বুক ঠুকে অগত্যা ফিরে আসি সোজা রাস্তা ধরি। চেনা জানা মানুষগুলোও কেমন যেন অচেনা মনে হয়, একদমই অন্যরকম রাতারাতি ভোলবদল সবই যে কেমন পাল্টে যাচ্ছে দ্রুত তাদের রকমসকম আমিও কি ছাই আছি আগের মতোই? পাল্টে যাওয়া দুনিয়ার এক অনাহুত শিং ভেঙ্গে ঢুকে যাওয়া বাছুরের মতো বর্তমানের কাছে যেন এক বহিরাগত! হিসেবের খাতা খুলে মেলাতে যেতেই ভুলগুলো যে তাড়া করে দাঁত খিঁচিয়ে কিভাবে এতগুলো দিন কাটিয়ে দিলে ভুলে ভরা জীবনটা নিয়ে মাথা উঁচিয়ে! সারি সারি হাঁটে ভুল ঠিকগুলো পিছে মনেতে ধন্দ জাগে কোনটা যে সঠিক এতদিন যে ভাবে কেটে গেছে, নাকি ঠিকগুলো ভুল অথবা ভুলটাই ঠিক?