Skip to main content

Posts

Showing posts from August, 2019

মুক্তির বোঝা - কলমে দলছুট পাখি

 মুক্তির বোঝা .....দলছুট পাখি উফফ, যা জিনিসপত্রের দাম! ভাবতে ভাবতে বাজার থেকে ফিরছিলাম। আজ যেন বাজারের ব্যাগটা খুব ভারী মনে হচ্ছিল। নামিয়ে রাখলাম একটা পাঁচিলের পাশে। আগে একসাথে এখানে এত লোকের মেলা কখনো চোখে পড়েনি তো! তবে কি কারণ! এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ! পর পর পাঁচটা শবদেহ সাজানো রয়েছে। ফুলে, ধূপে, খোল, কীর্তনে গমগম করছে চাতালটা। একটু এগিয়ে গিয়ে দেখি, চারিদিকে ফিসফিস আলোচনা- কৌতূহলের বশে একজনকে জিজ্ঞেস করি- আচ্ছা দাদা, ব্যাপারটা কি? একই পরিবারের মনে হচ্ছে... জনৈক উত্তর দিলেন, ব্যাপারটা খুবই সাধারণ, বউটা একটা কুলটা, কোথায় কি ফষ্টিনষ্টি করতো ঠিক নেই। কাল রাতে বাড়ি ফিরে ওর স্বামী বউকে, সাথে বাবা, মা, মেয়েটাকেও বিষ খাইয়ে নিজেও খেল। আর একজন এগিয়ে এসে জানায়, আরে ওই বয়স্থা মেয়ে। বিয়ে হচ্ছে না, এদিকে পেটে বাচ্চা! তা আর পরিবার কি করে? মেয়েটাকে বিষ দিয়ে নিজেরাও নিল। একজন বৃদ্ধের মন্তব্য, বাবা এই তো দিনকাল! এই বুড়ো বাপ মাকে নিয়েই নিত্য ঝামেলা। কতদিন টানবে? তাই ছেলে, বউ মিলে ওদের খাবারে বিষ দিল। পুলিশে ধরা পড়ার ভয়ে মেয়েটাকেও খাইয়ে নিজেরা খেল। মাথার ভেতরটা ঝনঝন করতে লা...

বুলবুল - আব্দুস সালাম দৌলতী

বুলবুল   - আব্দুস সালাম দৌলতী আব্দুস সালাম দৌলতী হারিয়ে সাথী দিবা রাতি খুঁজি সে বুলবুল? আজ একেলা মন উতলা খুঁজে ফিরি তোমারই তুল। ঘুমের মাঝে কানে বাজে শিকল ভাঙা সেই গান, বিশের বাঁশী সর্বনাশী হৃদে তোলে ঝড় তুফান। গানের পাখি দিয়ে ফাঁকি অচিনপূরে গড়লে নিবাস মনের মাঝে সে সূর বাজে দিন হপ্তা বারোমাস। এসো ফিরে কুট্টিত দুয়ারে মজলুম করে ফরিয়াদ বিদ্রোহী তুমি কাঁপিয়ে ভূমি ছিনে আনো মসনদ। বদ্ধ ঘরে বদ্ধ জাতী ঘুমিয়ে আছে নেশায় মাতি আচ্ছা করে চাবুক মেরে জাগিয়ে তোলো এই রাতি। তপ্ত বুলেট? তবু নহে হেট, চির উন্নত শির- কলম যুদ্ধ! করেছে তব্ধ, ভেঙেছে ওদের স্বপ্ননীড়। জেল জুলুম হুলিয়া দিয়েছো দুরে ঠেলিয়া, তবু নেই শঙ্কা, মিথ্যা তাড়াতে সত্যের পথে বাজিয়েছো রণ ডঙ্কা। ওহে বুলবুল গাহ অনুকুল নব জোয়ারের গান উঠুক জেগে বিদ্যুৎ বেগে, এই বিশ্বভরা প্রাণ। এ ধরাতে আবার বাজুক শেকল ভাঙার গান নার্গিস ফুলের সৌরভে খুঁজি মানবতার পীঠ স্থান।

ফরিয়াদ - দলছুট পাখি

 ফরিয়াদ .....দলছুট পাখি ফিরে যেতে চাই বারবার ওই লাউ মাচার উঠোনে- রাতের শিশির যেখানে লিখে রাখে একা রাত্রির অমনিবাস, মৃত শামুকের দীর্ঘশ্বাস ভরা বুকে- নোনা স্বাদ অহরহ ফরিয়াদ। ঠিকানা ভুলেছে গোপন ষড়যন্ত্র, শুধু অতীতের স্মৃতি আলাপন রডডেনড্রোনের বুক জুড়ে- ফিরে যেতে চাই শুধু একবার... প্রতিশ্রুত সেই নিকোনো উঠোনের দ্বারে। রাতজাগা পাখি আমি আঁধার পথেই খুঁজি আলোর পথের ঠিকানা; ফিরবো কিনা ওই ছেঁচি, শুশনির পাড় ধরে কোনোদিন নিজেই জানিনা। লাল ছিল সেই পলাশের পথে, সাথে মাধবীর ঘ্রাণ- হারিয়ে গিয়েছে কোনো এক অজানার ঝড়ে পাখির এই প্রাণ। দলছুট হয়ে ফিরি ওই পাহাড়ের কোল থেকে আকাশের নীলে; মৃত শামুকে বুকে গুনি সুনামির ঢেউ, ওই শান্ত সলিলে। শিউলি বিছানো উঠোন আজও টানে, টানে সন্ধ্যা তুলসীর শাঁখ- জানিনা এ ফরিয়াদী জীবন কখনো খুঁজে পাবে কিনা সেই ভুঁইচাঁপার বাঁক! ©দলছুট পাখি @champa sarder

নাগাসাকি দিবস

 ৯ই আগস্ট ১৯৪৫  নাগাসাকি দিবস .....দলছুট পাখি চলে গেল আরও লক্ষ প্রাণের শিখা... উদ্ধত অহংকারের বিস্ফোরণে ধূলিসাৎ নাগাসাকি। ক্ষমতার বর্বরতায় পিশাচের হাসি, ধূর্ত নেকড়ের লোভাতুর লালা, ডলারের গরিমায় অন্ধ ভগবান- জ্বালাময়ী হেমলকের বিষ রাশি। যতটুকু বাকি ছিল শ্মশানের মেলা- পূর্ণ হলো ওই মোটা লোকটার জন্য, গরিমার মুখোশে দেবরাজ আসলে পুরোটাই জঘন্য বর্বর আদিম  বন্য। শ্মশানের মাংস পোড়া গন্ধ চারদিকে- থেকে থেকে শেয়ালের ভয়াল আর্তনাদ, দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের রণভেরি উল্লসিত- সাগরের প্রশান্তিতে দ্বীপের দীপ্তি বরবাদ। জেনে রাখ তুই বিভেদের গন্ডি রেখা- মহাকালের বিচারে কখনো ক্ষমা পাবি নাকি?

পুষ্পাঞ্জলি - দলছুট পাখি

থ্যালাসেমিয়া এক মারণ ব্যাধি। সময় মতো রক্ত পরীক্ষা করান। গড়ে তুলুন থ্যালাসেমিয়া মুক্ত সমাজ। সকল ভাবি পিতা মাতার কাছে আমার একান্ত আর্জি। পুষ্পাঞ্জলি .....দলছুট পাখি আর তো বাকি কিছুদিন মা- পরাবে তো আমায় সাজ? লাল ফ্রকেতে সাজবো এবার চুলে বাঁধবো লাল ফিতে; না বোলো না যেন আবার তোমার থাক না যতই কাজ। পাঁচ বাড়িতে বাসন মেজে ঘরের কাজে ব্যস্ত মা। বুকের ভেতর শ্রাবণ ধারা চোখে ধূসর মরুভূমি; 'আজ তো সবে মহালয়া যা, এখন খেলতে যা।' মাগো আমার আবার কবে ওই রক্ত নিতে যেতে হবে? ভীষণ দুষ্টু ডাক্তার গুলো সূঁচ ফোটায় খুব জোরে; এবারেই কি শেষ বার মা আমার রক্ত নেওয়া তবে? মায়ের মুখে হাসির ঝিলিক তোর আর কষ্ট হবে না। এবারেই দেখিস শেষ বার ওই হাসপাতালে যাবার; হাসবি, খেলবি, স্কুলে যাবি আশীর্বাদ করেছে দুর্গা মা। মেয়ের চোখে স্বপ্ন হাজার দুলিয়ে বেণী লাল ফ্রকে। মণ্ডপে ওই ঢাক বাজছে পুষ্পাঞ্জলি দু হাত ভরে; এখানে ওখানে নবমী ভোগ দুর্গা ভাসান পুকুর পাড়ে। দেখতে দেখতে দিনটি এলো ষষ্ঠী ঘটে বোধন পূজা হবে। কাজের বাড়ি দিয়েছে ফ্রক হরেক রকম সাজের জিনিস; একটু যেন ক্লান্তি বেশি কি ঘটবে আজকে ত...