Skip to main content

অনুগল্প - বিচার , কলমে - তাহিবুল আলম

অনুগল্প #বিচার

#এবছর বৃষ্টির তেমন ধরণ নেই, তবুও আষাঢ়ের প্রথম সপ্তাহের পর নিয়ম রক্ষার্থে নেমেছে দুই চার ফোঁটা! সকাল থেকেই ঝরছে ঝিরিঝিরি, মেম্বার সাহেবের বৈঠকখানায় জনা তিরিশ বা তার অধিক সংখ্যক মানুষ উপস্থিত হয়েছে! হালকা উত্তেজনা রয়েছে, মাগরিবের নামাজ শেষ করে দলের মৌলবি সাহেব এসে পৌঁছলেন৷ একজন হাঁক দিয়ে বললো এই ভোলা চা দিয়ে যা, আজ খরচা সেলিম দেবে৷ বেচারা মানুষটি বৈঠকখানার এক কোনে হাঁটুর উপর মুখ দিয়ে বসে আছে৷ মৌলবি সাহেব তাগিদ দিলেন, " মোড়লরা কোথায়? আর অভিযুক্ত আনোয়ার কোথায়"?
কেউ একজন বললো তাকে ডাক করা হয়েছে, আর বড় মেম্বার আসছে!

ইতিমধ্যে সকলে এসে উপস্থিত, গ্রামের বড় মেম্বার এসে হাঁক ছাড়লো, " কি রে বল কি হয়েছে"?
সেলিম বলল, মেম্বার সাহেব, আমার বেরোনোর রাস্তাটার একটু সমাধান করুন!
বাকিরা গুনগুন করতে লাগল, মেম্বার সাহেব , এই সমস্যা গত দশ বছরে সমাধান হয়নি, এলাকার মোড়লদের কথা আনোয়ার মানেনি, এবার এটার একটা বিহিত দরকার!
নিম্নস্থানীয়দের উদ্দেশ্য করে মেম্বার সাহেব বলল, অন্ধকার হয়ে আসছে, আমি বাড়ি গেলাম, তোরা একটু দেখ! সেলিম বুঝল এখানে আনোয়ারের স্ত্রীর পক্ষের প্রভাব খেটেছে, ও পাড়ায় তার শ্বশুর বাড়ি৷
ছোট মেম্বার বিচার করে দিলো, যেহেতু এ তোদের কেনা সম্পত্তি তাই দুজনের সমান অধিকার আছে৷  তা সেলিম যদি সদর রাস্তায় বেরোতে পারে তাহলে আনোয়ারও পাবে সেলিমের বাড়ির ভিতর দিয়ে যেতে৷ সেলিম চুপ করে রইল, মেম্বার বিচার দিল, আনোয়ার যা চায় তাই হোক, বছর তিনেক পরে এর বিচার করা হবে, তুই একটু সহ্য করে নে সেলিম!
উপস্থিত জনতা ভিন্ন মত প্রকাশ করতে লাগলো, মৌলবি সাহেব আর ইমামতি করেন না, রাজনীতিতে তার প্রবেশ ঘটেছে বহুকাল আগে৷ তাই তার রায়ও গেল মেম্বারের দিকে অর্থাৎ আনোয়ারের অন্যায় দখলদারির দিকে!
সেলিম বলল, "এর বিচার প্রভুর দরবারে হবে"!.

Comments

Post a Comment

Popular posts from this blog

বোকা দিবসের শুভেচ্ছা - Champa Sader

চালাকি করেই জীবন গেল চালাকি করেই চলছো বেশ চালাকি দিয়েই আগামী যাবে রোজনামচায় দশের দেশ। আমিই কেবল বোকার হদ্দ বোকামিতেই দিন কাটাই, স্বপ্ন দেখেই হাসছি কেবল তারা গুনে রাত ছাটাই। চালাকিটা থাক তোমাদের এদিক সেদিক কথার ভাঁজ, সময় বদল মুখোশ পরে সুযোগ বুঝে বদল সাজ। বোকার মতো হয়েছি খুশি বোকার মতো দিয়েছি তাল, কেন যেন আজও বুঝিনা কোনটা মেকি কোনটা জাল! চালাকি থাক রক্তে তোমার বিজয়ী হও জীবন খেলায়, বোকা হয়েই থাকবো আমি দেখা হবে ভবের মেলায়।

সমকাল কোলাজ ( তৃতীয় সংখ্যা )

  সম্পূর্ণ ম্যাগাজিনটি পড়তে ক্লিক করুন নিচের লিঙ্কে -  সমকাল কোলাজ এপ্রিল সংখ্যা ২০২১

বিষয় - পুজোর প্রেম। গল্প - অল্প প্রেমের গল্প , কলমে - চম্পা সর্দার

জয়াদেবী ফোনটা হাতে নিয়ে উদাস হয়ে বসে ছিলেন বারান্দায়। মনে পড়ছিল- সাগর, ঝিনুক তখন কত ছোট... মা, এবার কিন্তু আমাকে পুজোতে একটা পুলিশের ড্রেস কিনে দেবে, আর একটা বন্দুক। দশ রিল ক্যাপ চাই আমার। রোজ রোদে দেবো, দেখবে কেমন ফাটে। নাড়ু বানানোর জন্য নারকেলে পাক দিতে দিতে জয়া বলে- সাগরের চাহিদা তো শুনলাম এবার তোর কি চাই ঝিনুক? আমার একটা গোলাপি রঙের ফেয়ারি ড্রেস। গোলাপি হেয়ারব্যান্ডও চাই, তিনটে ফুল লাগানো। তা তোমার কি চাই জয়া? বাজারের ব্যাগটা রান্না ঘরের এক কোণে নামিয়ে রাখেন সুব্রত বাবু। আরে, আরে তোমার কি কোনো দিন বুদ্ধি হবে না! একশো দিন বলেছি, বাজার করে ব্যাগ রান্না ঘরে ঢোকাবে না! চেঁচিয়ে ওঠে জয়া। দেখলি সাগর, দেখলি ঝিনুক তোদের মা কেমন সারাক্ষন আমায় বকতে থাকে। তোদের সাথে সাথে আমারও নিস্তার নেই তোদের মায়ের কাছ থেকে। সেবারের পুজোতে ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে ছবি তোলা হয়েছিল স্টুডিওতে। একটা ছবিতে পুলিশের ড্রেস পরে সাগর আর পরীর মতো সাজে ঝিনুক। আর একটা ছবিতে জয়া, সুব্রতর সাথে সাগর, ঝিনুক। ফ্যামিলি ফটো। ফোন গ্যালারিতে ছবিগুলো দেখতে দেখতে চোখটা ঝাপসা হয়ে আসে ষাটোর্ধ্ব জয়ার। এলবাম থেকে ফোনে ছবি ত...