Skip to main content

Posts

Showing posts from June, 2019

বৃষ্টি ভেজা সেই দুপুরে , কলমে - দলছুট পাখি

## বৃষ্টি ভেজা সেই দুপুরে ## ......দলছুট পাখি তুমি যখন খবর দিলে মেঘ করেছে আকাশ জুড়ে আমি তখন বৃষ্টি ভিজে ফিরছি একা ঠিক দুপুরে । গুনগুনিয়ে গাইছিল মন জৈষ্ঠ্যে নামুক অকাল শ্রাবণ তোমার আমার শরীর জুড়ে প্লাবন আসুক ঠিক দুপুরে । হাত বাড়িয়ে বৃষ্টি ছাটে পুড়ছিল মন তখন দুপুর দেখব তোমায় দূরের থেকে বৃষ্টি পায়ে ছন্দ নুপূর। এমন ক্ষনের না হয় শেষ বৃষ্টি মাখা স্নিগ্ধ আবেশ আলতো হেসে এই দুপুরে ঝড় ওঠে বা এই নুপূরে ! মাতাল ঝড় ধেয়ে এল সঙ্গে গভীর বাজের আওয়াজ হঠাৎ করে পড়লো জোড়ে, ধুইয়ে দিল বৃষ্টির সাজ । তোমার কাছে আসবো বলে ছিলাম তখন আমায় ভুলে জড়িয়ে নিল বাজের আওয়াজ মেঘলা বেলার বৃষ্টির সাজ । কিসের এত চেঁচামেচি  কিসের এত কোলাহল ? তোমার কাছেই এইতো আমি কেন তবে চোখে জল? বৃষ্টি সাজে সাজিয়ে দিয়ে আমায় কোথায় যাচ্ছ নিয়ে ? কেন সবার এত কৌতূহল ? তোমার চোখে শ্রাবণ জল ! আসবো আবার বৃষ্টি হলে তোমার উঠোন জুড়ে ছন্দে নূপুর বাজবে পায়ে মেঘলা দিনে সেই দুপুরে । বাসবো ভালো মনের মতো আদর দিও বাকি যত বৃষ্টি হয়েই পড়বো ঝরে মাতাল ঝড়ের সেই দুপুরে ।। ©দলছুট পাখি @champa sarder

গল্পের নাম - আনন্দি , লেখিকা- তাপসী ঘোষ (বেখেয়ালী)

Writer - Tapasi Ghosh - ও কাকি, চোখ দিয়ে জল গড়ায় ক্যান? - মনখান কান্দেরে পরাণ - ক্যান? - নদীর কূল’খান ডাক দেতেছে। কিন্তু শরীলডায় বড় জ্ব--র। রেতে জ্বর এয়েছিলো। এহনও শরীলডায় গরম। কি করে যাই ক’দিনি? তাইতো মনখান কান্দেরে পরাণ। মন ব--ড় কান্দে। একটা তিতো হাসি দিয়ে বলল পরাণ মাঝি- নদীর কূল! ও কাকি, ভরা বর্ষা! কূলের মাটি ভাঙতেছে রোজ এট্টু করে। সরতি সরতি গ্রামের মানুষগুলোর বাস এককোণে এসে ঠেয়েছে। দেহো, ঐ’কূলও থাহে ক’দিন! জেনে রাহো কাকি আমাদের শ্যাষ ঐ নদী গব্বেই। -ও’কথা কোস নে পরাণ। ও’কথা কোসনে। -ক্যান কবনা? আমাদের জেবন’তো জেবন নয়গো। পেত্যেক বার ভোটখানের সময় নেতারা কত আশ্বাসখান দিয়ে যায়। তারপর সব ফুরুৎ। রাক্ষুসী নদী ঐ ময়ালিনীর প্যাটখানাও কত্ত বড়ো! গবগব করে খেতেছে। রোজ জলের ধাক্কায় কূল ভাঙতেছে আর ভাঙতেছে। আনন্দি রুগ্ন হাতখানা পরাণের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, ধরদিনি আমায়। নিয়ে চলদিনি ঐ কূলে। দেহি কত বড় সাহসখান ঐ রাক্ষুসীর! আমার প্যাট নিল। সিঁদুরখান মুছলো। যে শাউড়ী আমায় বুক দিয়ে আগলাতো তাঁরেও খ্যালো। বাকি আমি। ‘খা আমারে’ কই ময়ালিনীকে; ‘কিন্তু গ্রাম উজাড়ের সাহসখান দেখাসনে’। রোজ ময়ালিনীর কূলে দাঁড়া...

চেতনা - সৌমী রাহা akhuli

জীবনদার "মেডিকেল স্টোর" খুব বিখ্যাত। এখানে জীবনদায়ী ওষুধের থেকে নেশার ওষুধ বেশী পাওয়া যায়।পাড়ার লোকেরা সেই জন্য খুবই অসন্তুষ্ট। হাজার বারণ সত্ত্বেও শোনেনা। নেশার ওষুধ বিক্রি করেই তিনটে বাড়ি আর চারটে গাড়ি কিনেছে। বাবার অজান্তে একমাত্র ছেলে ও মারাত্মক নেশাগ্ৰস্ত। ব্যাবসা দেখাশোনার অজুহাতে মাস খানেক দোকানে বসতো।আজ তার প্রাণ সংশয়।বিকেলে ডাক্তার জবাব দিয়ে গেছে। অর্থের লোভে কত জীবনকে নেশার দিকে ঠেলে আজ জীবনদার চেতনা ফিরেছে। শত চেষ্টাতেও শেষ রক্ষা করতে পারল না।

ভৌতিক গল্প - " গলাকাটা লাশ" , কলমেঃ সনাতন কুন্ডু

বাড়ির কাজের জন্য দেরী হয়ে যাওয়ায় শেষ বাসে দিদির বাড়ি যাচ্ছি ।যখন নিশিপুর স্টপেজে নামলাম তখন প্রায় রাত্রি ১২টা বেজে গেছে।জনশূন্য নিঝুম রাত।ঘুটঘুটে অন্ধকার ।বাস থেকে নেমে মেটো পথে হেঁটে চলেছি ।রাতের ঝিঁ ঝিঁ পোকা আর শেয়ালের ডাকে ভয় লাগছিল ।যেতে যেতে একটি শ্মশানঘাট পাড় হচ্ছি।বুকটা দুরদুর করছে ।হঠাৎ কানে একটা আওয়াজ এলো " আমাকে বাঁচাও,আমাকে বাঁচাও "।শব্দটা কানে আসতেই আমি চমকে গেলাম ।মনে হলো শ্মশানের দিক থেকেই যেন আওয়াজটা আসছে ।একটু দাঁড়িয়ে ভালো করে শুনলাম।কিন্তু সেই একই আওয়াজ " আমাকে বাঁচাও, আমাকে বাঁচাও "।এবার আমি তো ভয়ে আধমরা হয়ে গেছি ।এত রাতে এই শ্মশানে আর কে ডাকবে, নিশ্চয়ই ভূত।পুকুরের ওপার থেকে আলোর আভাসে দেখি সে এক অদ্ভুত দৃশ্য ।সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এক গলাকাটা লাশ ।দেখেই আমি মারলাম সজোরে দৌড়।এক দৌড়ে একেবারে দিদির বাড়ির সামনে । তড়িঘড়ি করে দিদির বাড়ির দরজায় টোকা মারলাম।কিছুক্ষণ পর ভিতর থেকে জামাইবাবু বেড়িয়ে এলো ।আমায় জিজ্ঞাসা করলো," কী ব্যাপার, এত রাতে?"।আমি বললাম, " শেষ বাসটা খুব দেরি করেছ,তাই "। ভিতরে যেতেই আমার কম্পিত স্বর শুনে দিদি জিজ্ঞাসা করল...

ছোটগল্প - " মূল্য " by Jayanta Adhikari

WRITER - JAYANTA ADHIKARI অবশেষে সব যন্ত্রনার অবসান হল, ভোরে , সাড়ে চারটের সময়! শেষ চার চারটে মাস ধরে বার বার হসপিটাল - ঘর - অফিস - হসপিটাল - ওষুধ - ডক্টর - নিদ্রাহীন রাত - ক্লান্ত সকাল; ওহ, আর যেন পারছিলাম না টানতে। বার বার মনে হতো, কবে শেষ হবে এই যন্ত্রনা ? কবে পাবো আবার ফিরে, নিশ্চিন্ত দিনগুলো ? ++++++++++ আট মাস আগে, রুটিন চেকআপের সময়েও কোনোকিছুই ধরা পড়েনি। সব রিপোর্ট নিয়ে যখন ডক্টরের সাথে কথা হলো, ডক্টর বলেছিলেন, "সবকিছু নর্মাল, প্রেসারটা একটু বেশির দিকে, তবে এই বয়সে এরকম একটু হতে পারে। সেটা খুব একটা চিন্তার কিছু নয়। আর আপনার বাবার রাতে মনে হয় আজকাল একটু কম ঘুম হচ্ছে, তাই না ? যদি ঘুমের খুব সমস্যা হয়, ওনাকে এই ওষুধটা দেবেন। আসলে এই সত্তরের কাছাকাছি বয়সে, রেস্টের ও তো দরকার আছে। তবে..... " বাবার দিকে তাকিয়ে ডক্টর বলেছিলেন, "সিগারেট কমাতেই হবে আপনাকে আঙ্কেল। দিনে দু প্যাকেট সিগারেট, খুব খুব খারাপ। " এর পর সব ঠিক ছিলো। হঠাৎ দু সপ্তাহ পরে, বাবার প্রচন্ড ব্যথা শুরু হয় পেটের ভেতরে , বেশ কয়েকবার বমিও করে , সাথে বেরোয় রক্ত। তাড়াতাড়ি ভয় পেয়ে, ডক্টরে...

আগামী উপন্যাস - দেবাশিস রায়

একটি সদ্যজাত.... আর তার নাভি-মূল....  অকারণ উৎপাটিত। একটি স্নিগ্ধ প্রভাত.... সহসাই প্রতিকূল..... ক্ষণিকের মেঘে কলুষিত। একটি শানিত ছুরি... আর ঘাতকের পাশব উল্লাস... নির্মম মন-ভূমে বসবাস। এখনো গুপ্ত -ঘাতক... চোরাগোপ্তা রাতের অন্ধকারে... ঘুরে আসে ইতিউতি পথ ধরে। লড়াই এবার নতুন করে... নতুন হাতিয়ারে,নব কলেবরে মায়াময় স্নিগ্ধতার আগামীর' বছরে। সেই রণে, সেই ক্ষণে, সপ্তরথী স্তব্ধ হবে..... নতুনের পথে নব-বিন্যাসে নব চেতনার স্বাদ আগামী -উপন্যাসে।