Skip to main content

Posts

Showing posts from April, 2020

। বোকাদের দিন।- আর্য তীর্থ

এই চালাক পৃথিবীতে, বোকাদের জন্য একটা দিন তোলা থাক। যারা বরাবার পচা মাছ দেখাতে থাকে সরিয়ে সুচারু শাক, যদিও জানা কথা, মাছের ব্যাপারীরা তাতে যাবে খেপে। সেই সব মূর্খদের জন্য , যারা এখনো কথা বলেনা জিভ মেপে, এখনো যাদের ভাবনা নোঙর হয়নি কোনো ঈশ্বর বা পতাকায় সেলফির কারিকুরি ছেড়ে, যারা দুনিয়া দেখছে আজও হাতআয়নায়, তাদের জন্য একটা দিবস রাখা দরকার বছরের ফাঁকে, যেমন বিবেক এসে মাঝে মাঝে নাড়া দিতো যাত্রাপালাকে। এরা চিরকেলে বোকা। তার সাথে একগুঁয়ে আর একরোখা, যেদিকে যাচ্ছে ভিড়, তার বিপরীতে গিয়ে জেদি তাল ঠোকা, অভ্যেস যেন। স্বভাবত সমকালে প্রবল নিন্দাসহ শাস্তিপ্রাপক, হিংস্র আগুনে পোড়ে, শাসক গারদে পোরে, দেয় হেমলক। এরা খোলা মুখে বলে দেয়, রাষ্ট্রের নির্দেশে কোথায় গলদ, অথচ বিরোধী কোনো রাজনীতিবিদ নয়, সত্যের বোঝা বওয়া কলুর বলদ। ক্ষমতাবিহীন , তবু নিষ্কম্প স্বরে বলে কোথায় মানুষ মরে ঈশ্বরভেদে, যত ধর্মের ষাঁড়, এরকম বোকা পেলে তেড়ে গিয়ে দুই শিংয়ে বেঁধে। মজার ব্যাপার জানো, বোকাগুলো জানে সেটা। প্রাণ যাবে, মান যাবে জানে, তবু মূর্খের মতো, কাদা-হাঁটু হেঁটে যায়, তখনো অলীক ভাবা পথ সন্ধানে। এরা পতাকায় নিস্পৃহ, যুদ্ধে...

বোকা দিবসের শুভেচ্ছা - Champa Sader

চালাকি করেই জীবন গেল চালাকি করেই চলছো বেশ চালাকি দিয়েই আগামী যাবে রোজনামচায় দশের দেশ। আমিই কেবল বোকার হদ্দ বোকামিতেই দিন কাটাই, স্বপ্ন দেখেই হাসছি কেবল তারা গুনে রাত ছাটাই। চালাকিটা থাক তোমাদের এদিক সেদিক কথার ভাঁজ, সময় বদল মুখোশ পরে সুযোগ বুঝে বদল সাজ। বোকার মতো হয়েছি খুশি বোকার মতো দিয়েছি তাল, কেন যেন আজও বুঝিনা কোনটা মেকি কোনটা জাল! চালাকি থাক রক্তে তোমার বিজয়ী হও জীবন খেলায়, বোকা হয়েই থাকবো আমি দেখা হবে ভবের মেলায়।

অন্তর দেবতা - অজয় চক্রবর্তী

যতই তোমাকে পাই হে ঠাকুর পাওয়ার সাধ যে বাড়ে, তুমি ছাড়া ওগো আর কেউ নেই অসহায় অন্তরে। সুখে তুমি থাকো, দুখে তুমি থাকো, ভাবনায় থাকো প্রাণে, সান্ত্বনা দেয় তোমার বাণী রোগে, শোকে, অভিমানে। পাষাণ দেবতা নওতো তুমি ডাকলে তোমাকে পাই, চেতনার রঙে রাঙাও ঠাকুর তুমি ছাড়া কেউ নাই। প্রতিষ্ঠা করেছি তোমাকে আমার হৃদয়ের মন্দিরে, অভিজ্ঞতায় পূর্ণ করেছো ভিতরে আর বাহিরে। তোমাকে স্মরণ না করে ঠাকুর দিনতো যায়না ভালো, তুমি আছো তাই জ্বলে ওঠে যেন আঁধার জীবনে আলো। তোমার বাণী প্রেরণা জাগায় হতাশায় হাহাকারে, তোমার বাণী বাঁচতে শেখায় দুঃখের কারাগারে। জীবনের যত দূর্বিপাকে ভাঙলো হৃদয় ঝড়ে, তোমার লেখনী বাঁচতে শেখায় আবার নতুন করে। তুমি আছো তাই সব ভয় যেন জয় করি সহজেই, তোমারই প্রেরণা দুর্ভাবনা ঘুচায় এক নিমেষেই। জীবন দেবতা আছো সর্বদা অনাথের হয়ে নাথ, কেমনে তোমাকে ভুলে থাকি বলো ঠাকুর রবীন্দ্রনাথ! এমনি করেই থেকো তুমি সাথে জীবনের প্রতিক্ষণে, তোমাকে স্মরণ করে হে ঠাকুর শান্তি পাই যে মনে।

বিদায় ফাল্গুনী দিন - অজয় কুমার দত্ত

এই ফাল্গুন এবার শুধুই বসন্ত জাগায় নি এই ফাল্গুন এবার শুধুই পলাশে রাঙায় নি এই ফাল্গুন নয়কো এবার আর বছরের মতো এই ফাল্গুন শঙ্কা ছড়িয়ে করেছে বিব্রত। বসন্ত বায় তেমনি উতলা আজ এই ফাল্গুনে ঝিমন্ত কায় প্রকৃতি রোদেলা সময়ের তাল শুনে উড়ন্ত মেঘ ধেনুদের মতো নবীন আকাশে চরে বছরের এই পড়ন্ত কালে ফাল্গুন অবসরে। রোগ মহামারী অনুসারী করে বসন্ত শুরুর মাস ভয়াবহ হয়ে পৃথিবীর গায়ে ঢেলেছ বিষের শ্বাস চৈতী হাওয়ায় হয়েছে শুরু ভেলা ভাসানোর ক্ষণ যাও যাও ফিরে ফাগুন তোমারে করেছি বর্জন। পরভৃত বাগে বসন্ত রাগে থামাও তোমার গান পলাশ শিমুল বেভুল হয়ে থামাও রক্তস্নান বসুধা জুড়ে মানবজাতির এই ঘোর দুর্দিনে বিদায় জানাও স্তব্ধতা মেখে অকরুণ ফাল্গুনে।

ছোট গল্প - টাইমপাস - জয়ন্ত

'আই লাভ ইউ টিনা, লেটস গেট ম্যারেড ', কবে থেকে এই কথা গুলো শোনার জন্য টিনা অপেক্ষা করে আছে। অবশেষে , আজ কলেজের শেষ দিনে সমর দেখা করতে চায় টিনার সাথে, একটু আগেই ওর মেসেজ এসেছে। মনে মনে ভীষণ খুশি আজ টিনা। সমরকে সেই কলেজের প্রথম দিন থেকেই ও ভালোবেসে এসেছে , ওরা দুজন কত ঘুরে বেরিয়েছে। একসাথে সিনেমা দেখা , খাওয়া-দাওয়া, বেশ কয়েকবার হোষ্টেলে একসাথে নিভৃতে সময় কাটানো ! আর কয়েকদিন বাকি ওদের কলেজ শেষ হতে। আর শেষ কয়েক মাস ধরে টিনা সমরকে বার বার ওদের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে জিজ্ঞেস করেছে ! আজ অবশেষে, সেই দিনটা এসেছে। একটু পরে সমর আর টিনার দেখা ক্যান্টিনের পেছনে। সমর কিছু বলার আগেই টিনা ওকে জড়িয়ে ধরে , - আমি জানি তুমি কি বলবে সমর। বলো কবে আমরা তোমার মা-বাবার সাথে দেখা করতে যাবো ! সমর একটু পিছিয়ে , ধীরে ধীরে বলে ওঠে, - টিনা , তুমি ভুল করছো। আমাদের মধ্যে যা হয়েছিল, সে সবই খেলা, টাইমপাস। এভাবে কেউ হঠাৎ করে প্রেমে পড়ে বিয়ে করতে পারে নাকি ? আর আমি তোমাকে, বিয়ে করবো ? আমার বিয়ে হবে কোনো বড়ো শিল্পপতির মেয়ের সাথে , যার অনেক টাকা - বাড়ি - গাড়ি। - তাহলে ? তাহলে এই মেসেজ করার মানে কি সমর ?...

অভিলাষ - জি এম রুহুল আমিন

চোখের তারায় যখন ও মুখের ছায়া ভেসে ওঠে মনে হয় সরোবরে কমল বুঝি ফোটে হৃদয়বীণার তারে জেগে ওঠে সুরের আন্দোলন কূল ছাপিয়ে জাগে যেন অনুরাগী মন মাতাল দখিনা বায়ে বয়ে আনে বুনোফুলের ঘ্রাণ প্রিয়তমা কাছে পেতে মন করে আনচান। চাঁদনী রাতে জোছনাসুধা ঘুচায় আলোর খরা মুখরিত তারার আকাশ ফুল্ল বসুন্ধরা বুকের উষ্ণ তাপে কেটে যায় হিমশীতল রাত প্রতীক্ষার প্রহর বেয়ে আসে সুপ্রভাত দূর হতে ভেসে আসে নীড়জাগা পাখির কলতান প্রিয়তমা কাছে পেতে মন করে আনচান। মনের গভীর কোণে আনমনে নিয়েছো যে ঠাঁই বেজে ওঠে মধুর স্বরে গোপন সানাই কামনার আগুন জ্বলে তৃষিত ঠোঁটের কোণায় চঞ্চল তনুমনে উত্তাল কাঁপন জাগায় অন্তরের সমুদ্রে জাগে বাঁধভাঙ্গা প্রেমের তুফান প্রিয়তমা কাছে পেতে মন করে আনচান।

নতুন পৃথিবী, পার্থদীপ সমাজদার

স্তব্ধ পৃথিবী, রুদ্ধ হয়েছে যানবাহন কমেছে মানুষের ফুর্তির পার্টিবাজ, স্বেচ্ছা বন্দী মানুষ আজ৷ থেমেছে চুরি ডাকাতি এই সভ্যতায় থেমেছে হিংসার আক্রোশ মানুষের, একাকীত্ব শিখালো বাঁচতে আজ৷ মানব মনের গহীন বনে ওঠা আত্ম অহংকারে গড়া লালসা, ফিরেছে নিজের কাছে; নিজের হাতে তৈরী নিজের মারণ ফাঁদে নিস্তব্ধ এই সভ্যতা, ফিরছে নিজের কাছে৷ চেয়ে দেখ আকাশ হয়েছে কত নির্মল দৃশ্য মান্যতা বেড়েছে দেখ অনেক, শান্ত হয়েছে প্রকৃ়তি যেন আজ; আজ আর ব্যস্ততা নেই কারও মনে ছিল যারা দূরে পরিবারের লোকজন মনের কথা বলছে কত আজ৷ কমেছে দূষণ অসুখ আকাশে বাতাসে কার্বোন মনো অক্সাইড কমেছে বাতাসে, নেই শব্দ তাণ্ডব বাতাসে; এক নতুন সজীবতা যেন দিয়েছে এই পৃথিবীকে চীনা মেড করোনা, সে নিয়েছে অনেক দিয়েছে বেশ৷ ভুলে গেছিল যে পরিযায়ী পাখিদের দল, নতুন করে তারা করে কোলাহল স্নিগ্ধ শান্ত নির্মল ভারতের বুকে, করোনা যেন নতুন জন্ম দিল পৃথিবীর যুদ্ধের রণ বাদ্যহীন, অস্ত্রের ঝংকার হীন নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন এঁকে৷ শান্ত হয়েছে হিমবাহগুলি, দূষণহীন পর্বত একাকীত্বের পথে বাড়িয়ে পা এ সভ্যতা, শিখেছে নিজে বাঁচত আর মানুষ বাঁচাতে , শিখছে ধর্ম নয় বর্ণ নয়, মানব...

স্মরণ মেলায়, কলমে - শিপ্রা কর্মকার

মনন স্মরণ মেলায় বসন্তের এক সন্ধ্যাবেলায় চৈত্র পূর্ণিমা জ ‍ ্যোৎস্নায় ।। আবেগী চোখ ছলছল প্রিয়জনের মুখ মনোবল চন্দ্রমার আলোলিকায় ।। সুখস্মৃতির উতলায় বসন্তের এক সন্ধ্যাবেলায় নিরালা নির্জনে একাকী ।। প্রকৃতির সুখ সম্ভারে আত্মতা থাকে যেন মানুষেরে স্মৃতি সততই সুখের ।। পাখিরা তরঙ্গদোলায় বসন্তের এক সন্ধ্যাবেলায় গানগেয়ে বাসায় ফেরে ।।

ঘরে থেকো , অমল কুমার বর্মন

ঘরে থেকো বাহিরে এখন নয়, নির্মল বায়ুর বড্ড সংকট। সময়টা দুঃসময়..... বিচ্ছিন্ন দৃশ্যপট রাস্তার মোড়ে মোড়ে ... আগুনের শিখা। ঘরে থেকো বাহিরে এখন নয়, নিজস্ব আয়ু করো সঞ্চয়। সকলকে বলো, ঘরে থেকো বাহিরে এখন নয়।

মরমী হাত বিভাগ , কবি - স্বপন গায়েন

বলছি সবাই মুক্ত স্বাধীন শৃঙ্খল নেই পায়ে সত্যিই কী হয়েছি স্বাধীন দেখছি কী ডানে বায়ে। সবুজ বনানী নীল আকাশ সবই লাগে সুন্দর আঁধার পেরিয়ে দেখবো কবে হৃদয় সুখী বন্দর! বিশ্বাস করে ধরেছি বন্ধু তোমার মরমী হাত একলা দিলে আমায় ফেলে এখন গভীর রাত। মানুষ মানুষকে চিনছে ভুল হারিয়ে যাচ্ছে বিশ্বাস ভরসা মোদের কে জোগাবে কেবা দেবে আশ্বাস। স্বাধীন বলে হাসছি সবাই খুশিতে ভাসছে দেশ মারছে ছুরি পিছন থেকে চিরকাল রবে রেষ!

শুধু ভালোবাসা-ই পারে, রাহী সরকার

ভালোবাসা বোঝালে ছোটো হয়না,কেউ কখনো কারো কাছে। তাই ভালোবাসা পরিমাপ করতে, রেখোনা কখনো কাউকে দূরত্বে। একমাত্র ভালোবাসাই দিতে পারে খুশি জীবন। তাই তাকে স্বযত্নে টিকিয়ে রেখো হৃদয় মাঝে আজীবন। করতে যেওনা কখনো তার নামকরণ, কারণ ভালোবাসা তো শুধু ভালোবাসাই হয়, ভালোবাসার মধ্যে থেকে নিজেকে ভালো রাখা যায় সব সময়, এটাই তো মনে হয়।

লক্ষ্মণ রেখা , এন. সত্যেন্দ্রনাথ

এই কথা! কী কঠিন, কর্কশ! বেশ... যাচ্ছি....অগত্যা...তবে... দিলাম রেখা এঁকে ধনুকের অশ্রুকণা দিয়ে-- ভিতরেই থেকো মিনতি, সুরক্ষিত। কিন্তু যদি টপকেছ এ রেখা, কোন প্রলোভনে, কিংবা নিজের খেয়ালে, ছিঁড়েছ বাঁধন সমূহ বিপদ। লাটিম, ঘুরে চলি একই কেন্দ্রে, বয়ে চলি থমকে দাঁড়িয়ে, এ মন.... ক্যাসাবিয়াঙ্কা।

অনুরণনে , পার্থদীপ সমাজদার

কে যেন করেছে চুরি আমারই মনের পরশ মনি, উদাসী করেছে আমায় সাজায়ে ভিক্ষারী সম; পলকে পলকে এ কোন অনুভবে হাসায় কাদায় উদাস মনি, বাইরে কেবল নির্জন নিস্তব্ধে অন্তর গড়ে কালবৈশাখী সম৷ কি যে ভাঙে, কেন ভাঙে বুঝি না তো আমি যে আমারে! কার অনুভব হীনে জ্বলছে হৃদয় বাইরে ধরি শান্ত এ বলয়? উঠেছে প্রভাত রবি অবনী পরে জাগায়ে বৃক্ষলতা পশুপাখিরে, তবু কেন জাগে না হৃদয় এই ধরণীর প্রাণহীন অবয়ব? বিধাতা কেন পাষাণ এমন সৃষ্টিরে তার করে ভাঙ্গন, সাজায়ে নেয় আপন তর শবের পরে শব গড়ে অবয়ব! শান্ত কেমন দেখ ধরণী এই ক্ষণে বোঝে না, জ্বলছে হৃদয় কত অনলে? এই ভাঙাগড়া সৃষ্টির মাঝে চির স্থায়ী কোন কাঠামোর অবয়ব? যা ছিল কাল, কিছু আছে তার বাকী সব গেল কোথা হারায়ে? বিশ্ব মাঝে খুঁজি তারে ছাড়ি লাজ আপন সাধন না করি আত্মসাৎ! চঞ্চল না কি অস্থিরের স্থির ভুবন ভাঙা গড়ার পাশা খেলা মেতেছে যে জন! ক্ষণে ক্ষণে অনুভব অনুরণনে একি শিহরণ কাঁপায় বিশ্ব ভুবন তারই অনুসরণে সে জন৷

'তোমায় নিয়ে--' দেবাশিস রায়

হোক না এ ধরা---- বর্বরতায় বণ্য,রুক্ষ....; তবু ছোঁবো তোমার শিরা উপশিরা--- ছোঁবো তোমার মহালিখারূপ-বক্ষ! নিভৃত অরণ্যপ্রদেশে..... ধনঝরি পাহাড়ের দেশে যেমন লোকে তীর্থে আসে..... লবটুলিয়ার অরণ্য-বাসে!! একলা-থাকার তোমায় নিয়ে.... লিখবো,'একটি জলকণার গল্প-ঋতু;' দিগন্তের ওই আগুন ঝরা তান্ডবেতে.... হলেই না হয় একটু ভীতু! প্রতিটি তৃণপত্রে------- নব কবিতার ছত্রে নাঢ়া ও ফুলকিয়া প্রেম এখানে পবিত্র-পরকীয়া!!