Skip to main content

Posts

Showing posts from October, 2019

বিষয় - পুজোর প্রেম , নাম - প্রথম দেখায় , কলমে - তানিয়া আদক

"সন্ধ্যের জন কোলাহলে কোনো এক নবমীর সন্ধিক্ষনে দেখেছিলাম ওদের ভিড়ে আড়চোখে,আয়নাতে প্রতিবিম্বরূপে.... অজানা ভালোলাগায় দুরুদুরু বুকে দেখেছিলাম প্রতিচ্ছবি,তোমার। কেউ দেখেনি কতটা আকাঙ্খিত সে চাহনি, শুধু দেখেছিল অদৃষ্ট... তবু বুঝিনি এ কেমন প্রেমময়তা? চোখের এক পলকে বুকের এক ঝলকানি। আশ্বস্ত আবহাওয়ায় ভেসে যাওয়া, প্রথম দেখায়;প্রেমে নয়। সেই নবমীর দু ফোঁটা বৃষ্টির রসিকতায় সেই অযাচিত স্পর্শ..... আজও মরা নদীতে আনে বান, ভাঙে পাড় হৃদয়ের, পাড়ি দেয় মোহনায়। তাই আজ পাড়ি দেবার সময় ঘনিয়েছে, এগিয়ে যাই যদি পাই সমুদ্র, ফিরবোনা পিছনে.... তবু দেখিস ডেকে,পরিযায়ী পাখিরাও যে ফেরত আসে, কিন্তু আমি হয়তো বা আর না......"

বিষয়-পুজোর প্রেম, গল্প - শরতাকাশে মন ভাসে , লেখিকা - তাপসী ঘোষ

- এ্যাই বনি শোন শোন…. দুর্গা পূজো সামনে। বনানী সাজের জিনিস কিনতে দোকানের দিকে। হাঁকডাকে দাঁড়িয়ে পড়লো। রবিবার। ঠেকে ছেলেদের আড্ডা চলছে। নাড়ু, রবি, কৌশিক পাড়ারই ছেলে সব। - কিরে এই সকালে কই যাস? বনানী মুখ কুঁচকে বললো - সে খবরে তোমার কি রবিদা? রবি মনে মনে বনানীকে ভালোবাসে। - একা যাস, যদি কুকুরে তাড়া করে! - কেন, আমি কি চোর? পাশ থেকে কৌশিক বলে উঠলো, মাইরি তুই চোর হতে যাবি কেন! তুই হলি গিয়ে আমাদের গুরুর বোন। তোকে রক্ষা করা কর্তব্য।  - দাদা কি তোমাদের দায়িত্ব দিয়েছে? নাড়ু তোতলা। উত্তেজিত হলে কথা আরো জড়িয়ে যায়। শব্দগুলো তখন ভয়ানক আকার নেয়। - এ্যাই বববড়দের সসসসঙ্ গে সম্...সম্ মানে.....ক...ক....ক বনির ধৈর্য্য কম। সে তার পথ ধরলো। বাড়া ভাতে ছাই পড়তেই রবি ক্ষেপে লাল  - শালা, তোকে কে কথা কইতে বলেছে? কৌশিক সবে লাইনে ফেলছিল। ধুস্...  এমনক্ষণে মধুবন আর বিমানের আগমন। - কি হয়েছেরে? বিমান প্রশ্ন তুলল। রবি ব্যাজার মুখে বললো - বনিকে একটু লাইন মারছিলাম। নাড়ু মাকড়া কেঁচিয়ে দিল। প্লিজ একটু ব্যবস্থা করে দেনা বস্। মাইরি তোর বোনটা এতো ত্যারা, বাগে আনতেই পাচ্ছি না! - হ্যাঁ গুরু তুমি ...

বিষয় - পুজোর প্রেম , কলমে - সৌমী রাহা আখুলি

সপ্তমীতে প্রথম দেখে মনটা কেমন করে,  অষ্টমীতে প্রেম বিনিময় হল চুপিসারে। বহু প্রতীক্ষার হল অবসান হৃদয় উঠল নেচে,  সোনার কাঠির পরশ পেলাম কোন অজানার বেশে। শিউলি সুবাসে মাদকতা আর কাশফুলে হিল্লোল, শারদপ্রাতে হৃদয় মাঝে লাগলো ফাগের দোল। সন্ধিপূজোয় চতুর্দিকে মায়াবী এক আলো, এলোকেশী চুল,রাঙা লাল টিপ, আঁখির কাজল কালো। নবমীতে মন খারাপির করুণ বীণার সুর, নয়ন সরসী দেখি আজ জলে ভরপুর। দশমীতে কোলাকুলি সিঁদুর খেলার ফাঁকে, বেদনাতেও খুশীর পরশ প্রণাম জানাই মাকে। আসছে বছর এসো মাগো এই কামনা করি, তোমার আশিস মাথায় নিয়ে প্রিয়তমার হাত ধরি।

বিষয় - পুজোর প্রেম , নাম - খুশির আগমনী , কলমে - গৌরী দাশগুপ্ত

নীল আকাশে  ছড়িয়ে আছে তুলা রাশি রাশি, মাতল ভুবন আনন্দেতে বাজিয়ে আলোর বাঁশি। মায়ের  অপেক্ষায়   উদগ্রীব যে প্রাণমন, কাশফুলেরা হিল্লোল তুলে জানায় মায়ের আগমন। মুক্ত সম শিশির বিন্দু মখমলের  ঘাসে, প্রাণ মন যে  পুলকিত  শিউলির  সুবাসে। সোনালী রোদ ছড়িয়ে পড়ে চতুর্দিকে, মাধুর্যময়  করে তুলতে সবুজ প্রকৃতিকে । ঢাকের আওয়াজ মনে তোলে যে আলোড়ন, দীন দুঃখী পায় না যে গায়ের নতুন  আবরণ । সাড়ম্বরে মাতৃপূজা  করলাম  নাইবা, সেই অর্থে করব  মোরা  দরিদ্র  সেবা। মা যে খুশী হবেন তাতে , সেটা মোরা জানি, মাতৃপুজার প্রেমে ,সবার মনে জাগবে আনন্দ ধ্বনি  ।

কালরাত্রি - মহা সপ্তমী স্পেশ্যাল - কলমে - দলছুট পাখি ( চম্পা সর্দার )

কুলি কামিনের ঘরের মেয়ে, কাঠ কুড়িয়ে দিন যায় তার আবার এত অহংকার! মাতব্বরদের চোখে ভালো ঠেকে না সাঁঝলির রকমসকম। কষ্টি পাথরে খোদাই করা নিটোল চেহারা, ছোট ছোট অথচ বুদ্ধিদীপ্ত দুটো চোখ, একঢাল কোঁকরানো চুলে শক্ত করে বিনুনি বাঁধা। গ্রামের কেন দূর গ্রামের যে কোন মানুষেরই চোখে পড়ে সাঁঝলির রূপ। ইবার হুল পরবটোতে তু আর লাচবিক লাই সাঁঝলি।  একটু জোর করেই ফুলমনি বলে কথাটা। পরবটোর পরেই তোর বিহা দিব বটে। আর কুতো দিন ওই খাতা বইটো লিয়ে ইসকুলে যাবি? পলাশবনির জীবনযাত্রায় নতুন কিছু খুঁজে পায় না সাঁঝলি। স্বপ্ন দেখে, কলকাতার কলেজ... উঁচু বিল্ডিং... ঠান্ডা ঘর...টিভিতে দেখা, সুন্দর ব্যাগ কাঁধে অফিস... উফফ, ভাবলেই যেন বারবার শিউরে ওঠে ও। আমি বিহা কোরবোক লাই। মুরে দুটা ভাত দিতে তুগো এত্ত অসুবিধা হইনছে? ঠিক আছে আর আইসবক লাই তুদের ঘরটোতে। বলে সাইকেলটা নিয়ে স্কুলে বেরিয়ে যায় সাঁঝলি। সারাদিন মনমরা হয়ে ক্লাসে বসে থাকে। টিফিনেও কারোর সাথে কথা বলে না। এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ও। খুব ভালো না হলেও মোটামুটি ভালোই রেজাল্ট করে আসছে এতদিন। সাড়ে চারটের ছুটির পর খুব ধীরে ধীরে সাইকেল নিয়ে বাড়ির পথেই রওনা হয় সে। র...

গৌরীর বোধন - দলছুট পাখি ( মহা ষষ্ঠী স্পেশাল )

- ফির ম্যাঘ করছে! আইজ মাছ ধরতে বাইড়ান লাগবো না। জিগাই, কতাডা কানে গ্যালো না কি? - না রে পতিমা, এহন কতো ট্যাকা লাগবো বল দিকিনি? তুই ভরা মাসের পোয়াতি। কয়দিন পর ঘর আলো কইরা একখান চান্দ আইবো... - হ, তা বইলা এই বাদলায় তোমারে আমি যাইতে দিমু না নদীতে। আমার শরীলডাও ভালো ঠেকতাছে না। - তুই চুপ মাইরা শুইয়া থাক পতিমা, ঢিলা দে শরীলডা। বিন্দা পিসিরে কইয়া যাইতাছি রাইতে তর কাছেই শুইবো। কহন কি দরকার লাগে। সুন্দরবনের খালবিলের জলা জীবন যাপনের এক দাম্পত্য জীবন প্রতিমা আর উমেশের। আট বছর পর সুখের মুখ দেখতে চলেছে ওরা। অনেক ঠাকুর দেবতা মানত করে প্রতিমার কোল ভরেছে, শুধু নতুন একটা সূর্য দেখার অপেক্ষা। বিন্দা পিসিকে রাতে প্রতিমার কাছে শুতে বলে উমেশ চলে যায় ছোট ডিঙিখানা নিয়ে মাছ ধরতে। বিকেল থেকে টিপটিপ বৃষ্টি শুরু হয়েছে। নদীতে যাওয়ার পথে মিত্তির বাড়ির দুর্গা দালানে দাঁড়িয়ে করজোড়ে প্রণাম জানায় উমেশ। - ঠাকুর অনেক দয়া তোমার। আমাগো মাটির ঘরে হাসি আনছো। তুমি দেইখ্য পতিমারে। আইজ ষষ্ঠী, মা গো... একখান বাচ্চার মুখ দেখাও আমাগো। জয় মা... -ও বউ... জিগাই অবেলায় অমন শুইয়া আছিস ক্যান। উমা কইয়া গ্যালো তর কাছ...

বোধনে বিসর্জন - দলছুট পাখি

-এই আস্তে আস্তে, আর একটু নীচু কর... -আরে গেটের মাথায় যেন না ঠেকে। - ও রুনু দা একটু একটু বাদিকে। উফফ কাজের সময় এতবার কে ফোন করছে! যতদিন ফোন ছিল না ভালো ছিল। কথাগুলো ভাবতে ভাবতে বা দিকটা সামলে নেয় রুনু। দশ জন জোয়ান বাহকের কাঁধে চেপে দশভুজা প্রবেশ করেন মণ্ডপে। আজ পঞ্চমী, বেশ কয়েকটা প্যান্ডেলেই পৌঁছে দিতে হবে জগৎজননীকে। মিত্রপাড়ার মণ্ডপে ঠাকুর নামিয়ে দশটা ঘর্মাক্ত শরীর একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। প্যান্ডেলের বাইরে একটু জিরিয়ে নেবার জন্য বসে পরে বেল গাছটার পাশেই। কাল সকালে ষষ্ঠী পুজো হবে এখানেই। বেশ বিরক্তির সঙ্গে রুনু বলে- - দেখো হয়েছে এক ফোন। পুজো কর্তারা সব ঠাকুরের সঙ্গে সেলফি তুলতেই ব্যস্ত। কোথায় আমাদের টাকাটা মিটিয়ে ছেড়ে দেবে, তা না! এই রফিক যা না, গিয়ে বল না আমাদের ছেড়ে দিতে। পটা দা বাড়ি যাবে কবে তুমি? পটা একটা বিড়ি ধরিয়ে দীর্ঘ ধোঁয়া ছাড়ে... - যাবো রে রুনু। ছেলে মেয়েদের নতুন জামা কিনে দিতে পারিনি এখনো। কাজ কয়েকটা শেষ করেই ভাবছি কালই ট্রেন ধরবো। - সে তো ঠিকই। বছরে এই সময়টাতেই তো একটু যা ঠিক মতো রোজগার। নয়তো মাটি কাটা, রাজমিস্ত্রীর জোগারের কাজে কি আর ইনকাম বল! -...