মুক্তির বোঝা
.....দলছুট পাখি
উফফ, যা জিনিসপত্রের দাম!
ভাবতে ভাবতে বাজার থেকে ফিরছিলাম। আজ যেন বাজারের ব্যাগটা খুব ভারী মনে হচ্ছিল। নামিয়ে রাখলাম একটা পাঁচিলের পাশে।
আগে একসাথে এখানে এত লোকের মেলা কখনো চোখে পড়েনি তো! তবে কি কারণ!
এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ!
পর পর পাঁচটা শবদেহ সাজানো রয়েছে। ফুলে, ধূপে, খোল, কীর্তনে গমগম করছে চাতালটা।
একটু এগিয়ে গিয়ে দেখি, চারিদিকে ফিসফিস আলোচনা-
কৌতূহলের বশে একজনকে জিজ্ঞেস করি-
আচ্ছা দাদা, ব্যাপারটা কি? একই পরিবারের মনে হচ্ছে...
জনৈক উত্তর দিলেন, ব্যাপারটা খুবই সাধারণ, বউটা একটা কুলটা, কোথায় কি ফষ্টিনষ্টি করতো ঠিক নেই। কাল রাতে বাড়ি ফিরে ওর স্বামী বউকে, সাথে বাবা, মা, মেয়েটাকেও বিষ খাইয়ে নিজেও খেল।
আর একজন এগিয়ে এসে জানায়, আরে ওই বয়স্থা মেয়ে। বিয়ে হচ্ছে না, এদিকে পেটে বাচ্চা! তা আর পরিবার কি করে? মেয়েটাকে বিষ দিয়ে নিজেরাও নিল।
একজন বৃদ্ধের মন্তব্য, বাবা এই তো দিনকাল! এই বুড়ো বাপ মাকে নিয়েই নিত্য ঝামেলা। কতদিন টানবে?
তাই ছেলে, বউ মিলে ওদের খাবারে বিষ দিল। পুলিশে ধরা পড়ার ভয়ে মেয়েটাকেও খাইয়ে নিজেরা খেল।
মাথার ভেতরটা ঝনঝন করতে লাগলো আমার। পা দুটো ভারী হয়ে আসছে।মনে হলো পায়ের তলায় মাটিটাও দুলছে। আমার ঘরেও মা, বাবা, বউ, ছেলে, মেয়ে আছে।
তবুও আবছা চোখে দেখলাম পাঁচ পাঁচটা স্থির কপালে সেলাইয়ের এফোঁড় ওফোঁড় সুতোগুলো বেরিয়ে এসে যেন আমার দিকে তাকিয়ে বিদ্রুপের হাসি হাসছে।
পোস্টমর্টেম!
লিভারে বিষ পাওয়া গেছিলো পোস্টমর্টেমে সত্যি!
কিন্তু মনের পোস্টমর্টেম কী হয়েছিল?
তা কি করা যায় কখনো!
আত্মহত্যার কারণগুলো একে একে ঢুকে গেল ইলেক্ট্রিক চুল্লিতে। শেষ হয়ে গেল কারণগুলো!
কুন্ডলী পাকানো ধোঁয়ায় ঢাকছে আকাশ...
হাসি মুখে মুক্তির স্বাদ মিলিয়ে যাচ্ছে আকাশে, মিশছে বাতাসে...
গুলিয়ে উঠলো শরীরটা, অজ্ঞান হয়ে গেলাম।
জ্ঞান ফিরলে, বাজারের ব্যাগটা নিয়ে বাড়ি ফিরলাম। সত্যি খুব ভারী লাগছে ব্যাগটা...
©দলছুট পাখি
@champa sarder
Comments
Post a Comment