Skip to main content

বিষয় - পুজোর প্রেম , কলমে - রাজদীপ দাস


রাধাবাজার স্বাধীন সংঘ..
হ্যাঁ, আমার পাড়া, আমাদের পাড়া...
আর পাড়ার পুজো মানেই মহোৎসব, বাঙালীর শ্রেষ্ঠ উৎসব বলে কথা.. বছরের ৪টে দিনের জন্য সারা বছরের অপেক্ষা.....

মা বললো, 'আজ সপ্তমী, তাই সাদা পোষাকটা পর, তোকে বেশ লাগবে..... '
আমি খানিকটা সংকোচ বোধ করলেও মায়ের কথাটা ফেলতে পারিনি.... তাই পরে নিলাম....
হ্যাঁ, আমি সায়ন্তিকা , পাড়ার সবচেয়ে দুরন্ত ও ছটফটে মেয়ে, পাড়ার কাকিমারা আমাকে তাই আদর করে naughty girl উপাধি দিয়েছে....

তো বাড়ী থেকে বেরোলাম পাড়ার মন্ডপের উদ্দেশ্যে......
১১টা বাজে, বন্ধুরা সকাল থেকে ফোন, মেসেজের ভূমিকম্প করছে.....
বেশ আনমনা হয়ে হাঁটতে গিয়ে আলগা হোঁচট খেলাম, কানে এলো খিলখিল কলে কে যেন হাসছে...
ফিরে দেখি, ও বাবা !! One & Only অভিলাষ, আমার বছরভরের ক্রাশ.....
আমাকে দেখে বললো, 'একটু দেখে চলতে পারো না ?? পুজোগন্ডার দিনে কি পা মোচকে ঘরে বসে YouTube-এ পুজো পরিক্রমা দেখার Plan-এ আছো নাকি ??'
আমি লজ্জাতে তাড়াতাড়ি চলে গিয়ে প্যান্ডেলে ঢুকলাম...
এর আগে অভিলাষের সাথে সরাসরি কথা বলার হিম্মত হয়নি, তাই বেশ লজ্জাই পেয়েছিলাম সেদিন....

সপ্তমীটা এই ঘটনার ভাবনাতেই ডুবে ছিলাম, তাই রাতে ঘুমটাও ঠিকমতো হয়নি.... রাতে শুয়ে সকালের ঘটনাটাই ভাবছিলাম আর অভিলাষের Profile Picture দেখছিলাম....

মধ্যরাতে কোনোক্রমে ঘুমালাম, কারণ পরদিন মহাষ্টমী, পুজোর জোগার থেকে শুরু করে অঞ্জলী সবটাই আমাদের উপর...
ঘড়িতে ভোর ৭টা ছুঁই ছুঁই......
হঠাৎ মায়ের ডাকে বিছানা ত্যাগ করে ঘুম চোখ রগড়াতে রগড়াতে ব্রাশ করতে গেলাম....
স্নান সেরে তৈরী হলাম কালো শাড়ী, মাথায় জুঁইয়ের মালা আর বং কালেকশন জুয়েলারীতে.... বসলাম পদ্মফুলের ডালাটা নিয়ে... আর মনে মনে ওর অপেক্ষা করছিলাম...
অঞ্জলী শুরু হতে আর মাত্র মিনিট ১৫ বাকী...
তাই যেই পুষ্পাঞ্জলীর ফুল আর প্রদীপটা ঠিক করে পিছনে ঘুরবো, চোখটা ৬ সেকেন্ড স্থির হয়ে গেলো....

হলুদ পাঞ্জাবীতে তিনি আসছেন আমারই দিকে.... হঠাৎ আমাকে বললো, 'আরে করছো কি !!! প্রদীপের তেল শাড়ীতে পরবে যে !!'
আমি চোখ আর মাথাটা নেড়ে নিজেকে সামলালাম.... বললাম, 'তাহলে একসাথেই অঞ্জলী দিই এসো, আমারও দেওয়া হয় নি'
মায়ের দিকে তাকিয়ে হাত জোর করে পুষ্পাঞ্জলী দিলাম, প্রদীপটা এগিয়ে দিলাম অভিলাষের দিকে.... সে প্রদীপের আভা নেবে কি !!! আমাকে দেখতেই ব্যস্ত, আমার চোখের দিকে তাকিয়েই থাকলো....
কেন জানি না আমারও প্রেম প্রেম পাচ্ছিল....
কিন্তু বলতে সাহস হলো না...

বাঙালীর অষ্টমী মানেই প্রেমের আবহাওয়া, তাই খানিকটা সেভাবেই গেলো আমাদেরও....

সন্ধিপুজো পার করে দূর্গাষ্টমীর নবমীতে পদার্পন, তার মায়ের বিদায়ক্ষণ আসন্ন....

মাইকেল মধুসূদনের কাব্যকথা মনকে ভারাক্রান্ত করলো,
'যেওনা নবমী নিশি আজি লয়ে তারাদলে,
চলে গেলে তুমি আজ এ পরাণ যাবে.....'

নবমীটা বেশ জমে উঠলো...
অভিলাষের সাথে এখন বেশ কথা বলতে সাহস জাগলো... তাই বেশ খোসমেজাজে হাতে হাত রেখে জমাটি আড্ডা আর প্রেমালাপ চললো, যদিও তখনও কেউ কাওকে মনের কথা বলিনি....

আজ দশমী, মায়ের বিদায়বেলা...
আপামর বাঙালী হৃদয়বিদারক মুহুর্ত.....
তাও মনখারাপের বিদায়বেলায় মন্ডপে গিয়ে উপস্থিত হলাম.... দেখলাম মায়েরা সিঁদুরখেলায় মত্ত আর ঢাকিরা তাদের ঢাকের তালে বিদায়ের তাল শোনাচ্ছে.....

এমন সময় হঠাৎ কে একজন পিঠে হাত দিয়ে ডাকলো, পিছনে ফিরতেই দেখলাম অভিলাষ সিঁদুরের থালা নিয়ে আমাকে রাঙিয়ে দিয়ে বললো, 'আজ মুখে মাখালাম, পরের ছোঁয়ায় সিঁথি রাঙাবো'....

আমি হতবাকচিত্তে ওর দিকে তাকিয়ে মনে মনে সম্মতি জানালাম আর মায়ের বিদায়বেলায় কামণা করলাম, 'পরের বছর যেন আমার সিঁথিটা রাঙানো থাকে অভিলাষের দেওয়া সিঁদুরে, আবার এসো মা, মন চাইছেনা তোমায় ছাড়তে তবু বলি, শুভ বিঁজয়া, আসছে বছর আবার হবে'......

© রাজদীপ দাস

Comments

Popular posts from this blog

বোকা দিবসের শুভেচ্ছা - Champa Sader

চালাকি করেই জীবন গেল চালাকি করেই চলছো বেশ চালাকি দিয়েই আগামী যাবে রোজনামচায় দশের দেশ। আমিই কেবল বোকার হদ্দ বোকামিতেই দিন কাটাই, স্বপ্ন দেখেই হাসছি কেবল তারা গুনে রাত ছাটাই। চালাকিটা থাক তোমাদের এদিক সেদিক কথার ভাঁজ, সময় বদল মুখোশ পরে সুযোগ বুঝে বদল সাজ। বোকার মতো হয়েছি খুশি বোকার মতো দিয়েছি তাল, কেন যেন আজও বুঝিনা কোনটা মেকি কোনটা জাল! চালাকি থাক রক্তে তোমার বিজয়ী হও জীবন খেলায়, বোকা হয়েই থাকবো আমি দেখা হবে ভবের মেলায়।

সমকাল কোলাজ ( তৃতীয় সংখ্যা )

  সম্পূর্ণ ম্যাগাজিনটি পড়তে ক্লিক করুন নিচের লিঙ্কে -  সমকাল কোলাজ এপ্রিল সংখ্যা ২০২১

বিষয় - পুজোর প্রেম। গল্প - অল্প প্রেমের গল্প , কলমে - চম্পা সর্দার

জয়াদেবী ফোনটা হাতে নিয়ে উদাস হয়ে বসে ছিলেন বারান্দায়। মনে পড়ছিল- সাগর, ঝিনুক তখন কত ছোট... মা, এবার কিন্তু আমাকে পুজোতে একটা পুলিশের ড্রেস কিনে দেবে, আর একটা বন্দুক। দশ রিল ক্যাপ চাই আমার। রোজ রোদে দেবো, দেখবে কেমন ফাটে। নাড়ু বানানোর জন্য নারকেলে পাক দিতে দিতে জয়া বলে- সাগরের চাহিদা তো শুনলাম এবার তোর কি চাই ঝিনুক? আমার একটা গোলাপি রঙের ফেয়ারি ড্রেস। গোলাপি হেয়ারব্যান্ডও চাই, তিনটে ফুল লাগানো। তা তোমার কি চাই জয়া? বাজারের ব্যাগটা রান্না ঘরের এক কোণে নামিয়ে রাখেন সুব্রত বাবু। আরে, আরে তোমার কি কোনো দিন বুদ্ধি হবে না! একশো দিন বলেছি, বাজার করে ব্যাগ রান্না ঘরে ঢোকাবে না! চেঁচিয়ে ওঠে জয়া। দেখলি সাগর, দেখলি ঝিনুক তোদের মা কেমন সারাক্ষন আমায় বকতে থাকে। তোদের সাথে সাথে আমারও নিস্তার নেই তোদের মায়ের কাছ থেকে। সেবারের পুজোতে ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে ছবি তোলা হয়েছিল স্টুডিওতে। একটা ছবিতে পুলিশের ড্রেস পরে সাগর আর পরীর মতো সাজে ঝিনুক। আর একটা ছবিতে জয়া, সুব্রতর সাথে সাগর, ঝিনুক। ফ্যামিলি ফটো। ফোন গ্যালারিতে ছবিগুলো দেখতে দেখতে চোখটা ঝাপসা হয়ে আসে ষাটোর্ধ্ব জয়ার। এলবাম থেকে ফোনে ছবি ত...