Skip to main content

Posts

Showing posts from November, 2019

ছদ্মবেশ - কলমে পূজা চ্যাটার্জী

ক্যানভাসের ওপর তুলি টানলাম...  টুকরো টুকরো খুঁটিনাটি রঙিন স্বপ্ন আমার..!   সাধ করে নীল রং লাগালাম..  ভাবলাম, নীলের সাথে গভীরতা ডুবে যাব!  কৃত্তিম উত্তাপ আর নয়..  ঝলসে যাব কমলা সূর্যের আলোয়..!!  হঠাৎ আঘাত করল দুর্ভেদ্য লাল কালির  আচর..  ছবি ঘরে   স্পষ্ট ক্ষত টের পেলাম ;  ভেজা ভেজা মেঘ জমলে চটজলদি..  কালো রংয়ের কষ্টে ভরে উঠলো ক্যানভাস..  আর শ্রাবণের জলে সব রঙ মুছে ফেললাম..!!  ধীরে ধীরে কালো রং ফিকে হল, ধূসর হলো..!!  আবার অপেক্ষা........  এরপর ধীরে ধীরে শুরু হলো  আবার সবুজ প্রাণের আনাগোনা..  নতুন চিকন সবুজ প্রেমের সুবাস..!!  আমি আজ অশান্ত....  আমার শান্তি আজ তোলা থাক...  আমার সব ছদ্মবেশ আজ শেষ,,  আমাকে ভালোবাসি...!!!  জোর দিয়ে বলতে পারি..!!  স্বার্থপর আমি,,  বারবার আমার আমি   টাকেই খুঁজে ফিরি..!!   শুধু আবিষ্কার করি, নবতম আমি  কেই..!!!

বিষয় - পুজোর প্রেম , কলমে - রাজদীপ দাস

রাধাবাজার স্বাধীন সংঘ.. হ্যাঁ, আমার পাড়া, আমাদের পাড়া... আর পাড়ার পুজো মানেই মহোৎসব, বাঙালীর শ্রেষ্ঠ উৎসব বলে কথা.. বছরের ৪টে দিনের জন্য সারা বছরের অপেক্ষা..... মা বললো, 'আজ সপ্তমী, তাই সাদা পোষাকটা পর, তোকে বেশ লাগবে..... ' আমি খানিকটা সংকোচ বোধ করলেও মায়ের কথাটা ফেলতে পারিনি.... তাই পরে নিলাম.... হ্যাঁ, আমি সায়ন্তিকা , পাড়ার সবচেয়ে দুরন্ত ও ছটফটে মেয়ে, পাড়ার কাকিমারা আমাকে তাই আদর করে naughty girl উপাধি দিয়েছে.... তো বাড়ী থেকে বেরোলাম পাড়ার মন্ডপের উদ্দেশ্যে...... ১১টা বাজে, বন্ধুরা সকাল থেকে ফোন, মেসেজের ভূমিকম্প করছে..... বেশ আনমনা হয়ে হাঁটতে গিয়ে আলগা হোঁচট খেলাম, কানে এলো খিলখিল কলে কে যেন হাসছে... ফিরে দেখি, ও বাবা !! One & Only অভিলাষ, আমার বছরভরের ক্রাশ..... আমাকে দেখে বললো, 'একটু দেখে চলতে পারো না ?? পুজোগন্ডার দিনে কি পা মোচকে ঘরে বসে YouTube-এ পুজো পরিক্রমা দেখার Plan-এ আছো নাকি ??' আমি লজ্জাতে তাড়াতাড়ি চলে গিয়ে প্যান্ডেলে ঢুকলাম... এর আগে অভিলাষের সাথে সরাসরি কথা বলার হিম্মত হয়নি, তাই বেশ লজ্জাই পেয়েছিলাম সেদিন.... সপ্তমীটা এই ঘটনার ভা...

বিষয় - পুজোর প্রেম । " পারফিউম " - শিপ্রা কর্মকার

আশ্বিন মাস,শরতআকাশ রূপলী মেঘে ঝলমলে।মাঝে মাঝে আবার গম্ভীর মেঘের আবির্ভাব ।মেঘেদের লুকোচুরি খেলা ।বাতাস শিউলিফুলের সৌরভে মুখরিত।কাশের বনে কাশফুল আনন্দে সম্ভাষণ জানাচ্ছে ।ক্ষেতে নবশস‍্য মঞ্জরী হাওয়ায় দুলছে ।চারদিকে খুশি সকলে দেবী দুর্গার আবাহনে ব‍্যস্ত ।প্রকৃতিও ব‍্যস্ত তার নানা অলঙ্কারের ডালি সাজিয়ে ।পূজোর আগমনী বার্তায় অতীতের স্মৃতি খুব মনে পড়ে যায় ।সেই গন্ধ ,কতো কথা ,কতো সাজানো স্বপ্ন সব একে একে মনের পর্দায় ভেসে আসছে ঠিক ছায়াছবির মতো ।সেই বিশেষ গন্ধ মনে করিয়ে দিল আরো অনেক কিছু !                         প্রায় দুযুগ আগের কথা তখন পূজোর আনন্দ  অন‍্যরকম অনেক বেশি বনেদিয়ানায় মোড়া ।বাড়িতে পূজা নাহলেও মহালয়ার দিন থেকেই মঙ্গল ঘট পাতা হতো ,সেই দিন থেকে চণ্ডী পাঠ শুরু হতো ঠাকুর ঘরে। পরিষ্কার পরিছন্ন বাড়ির চারপাশে ।মা উমা আসছে বাপের বাড়ি ।তাই এতো সাজসাজ রব ।নতুন পোশাক নানা খাওয়া দাওয়া ,কখনও আত্মীয় স্বজনের ভীড় পূজোর আনন্দকে একেবারে অন্য মাত্রায় নিয়ে যেতো । নতুন পোশাকের গন্ধ ,বন্ধুরা মিলে হৈচৈ আবার মাঝে মাঝে পূজো মণ্ডপে গিয়ে ঠাকুর ...

বিষয় - পুজোর প্রেম। গল্প - অল্প প্রেমের গল্প , কলমে - চম্পা সর্দার

জয়াদেবী ফোনটা হাতে নিয়ে উদাস হয়ে বসে ছিলেন বারান্দায়। মনে পড়ছিল- সাগর, ঝিনুক তখন কত ছোট... মা, এবার কিন্তু আমাকে পুজোতে একটা পুলিশের ড্রেস কিনে দেবে, আর একটা বন্দুক। দশ রিল ক্যাপ চাই আমার। রোজ রোদে দেবো, দেখবে কেমন ফাটে। নাড়ু বানানোর জন্য নারকেলে পাক দিতে দিতে জয়া বলে- সাগরের চাহিদা তো শুনলাম এবার তোর কি চাই ঝিনুক? আমার একটা গোলাপি রঙের ফেয়ারি ড্রেস। গোলাপি হেয়ারব্যান্ডও চাই, তিনটে ফুল লাগানো। তা তোমার কি চাই জয়া? বাজারের ব্যাগটা রান্না ঘরের এক কোণে নামিয়ে রাখেন সুব্রত বাবু। আরে, আরে তোমার কি কোনো দিন বুদ্ধি হবে না! একশো দিন বলেছি, বাজার করে ব্যাগ রান্না ঘরে ঢোকাবে না! চেঁচিয়ে ওঠে জয়া। দেখলি সাগর, দেখলি ঝিনুক তোদের মা কেমন সারাক্ষন আমায় বকতে থাকে। তোদের সাথে সাথে আমারও নিস্তার নেই তোদের মায়ের কাছ থেকে। সেবারের পুজোতে ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে ছবি তোলা হয়েছিল স্টুডিওতে। একটা ছবিতে পুলিশের ড্রেস পরে সাগর আর পরীর মতো সাজে ঝিনুক। আর একটা ছবিতে জয়া, সুব্রতর সাথে সাগর, ঝিনুক। ফ্যামিলি ফটো। ফোন গ্যালারিতে ছবিগুলো দেখতে দেখতে চোখটা ঝাপসা হয়ে আসে ষাটোর্ধ্ব জয়ার। এলবাম থেকে ফোনে ছবি ত...