Skip to main content

Posts

Showing posts from 2020

স্বাদ হীনতা - সোমনাথ সিংহ রায়

  ফাটা প্যান্টের ফুটো পকেট দিয়ে পয়সা গলে যায় ভগবানের। পকেটেরই বা দোষ কোথায়? ফেলে যাওয়া তেরাঙ্গার ফালি দিয়ে তাপ্পি দেওয়া!! আনকোরা কাপড়ে বানানো পতাকা তোলা হবে স্বাধীনতার পূর্ব থেকে আজ অবধি পরাধীনতার পক্ষে যে লোকটা তার হাত দিয়ে! পাড়ায় পাড়ায় মোড়ে মোড়ে 'সারে জাঁহাসে আচ্ছা'--------------সঙ্গে দলীয় নেতা-নেত্রীর মালা শোভিত ফটো!!! সবার মুখ মাস্কে ঢাকা। চলছে ভার্চুয়াল বক্তিমে! লাইভ শ্রোতা একজনই, ভগবান দাস ছেঁড়া পকেট সামলে উলঙ্গ মুখে স্বাধীনতা পূজোর প্যাকেটের লুচি আলুরদম পরম তৃপ্তিতে গুঁজে দিতে দিতে পাঁচিলে গায়ে লটকানো রাফালের গা ঘেঁষে নিন্মাঙ্গের বেগ কোন রকমে সামলে নিলো। ইশ্বরীকে করোনা ছোঁয়ার অনেক আগেই দাদার স্নেহের ভাইয়েরা ছুঁলো!? বাপের চায়ের দোকানে উদয় অস্ত পরিশ্রমের পরেও, শরীরটা হিলহিল করে লাউডগার মতো বেড়ে উঠছিলো ফ্রকের ঘেরাটোপকে হার মানিয়ে!! কৌমার্য মাখানো কোমল মুখটাও নজরে পড়ে গেল আবাগীর ব্যাটাদের, গত বছর এই দিনে! বাপটাও পয়সা খেয়ে চেপে গেল। আর করবেটাই বা কি? ওদের ওনেক খ্যামতা!!! দোকানটা তুলে দিতো নয়তো, লাশ হয়ে যেতো বেবুশ্যে বনে যাওয়া ইশ্বরীর পানচিবান...

স্বাধীনতার অমৃত বাণী - শিপ্রা কর্মকার

  স্বাধীনতার নবঅরুণোদয়ে আজও দেশ অন্ধকার এখনো ফুরালো না অসহায়ের আর্তনাদ হাহাকার ; কতো শহীদের অকাল প্রাণে এসেছিল স্বাধীনতা আশ্বাস বচন বদলে গিয়ে শুধু থাকলো হীনতা । এখনো নিদারুণ দারিদ্র্যে ঘরে থাকেনা অন্নকণা ধুয়ে মুছে যায় বছর ফেরে প্লাবনে সাধের ঘরখানা ; দেশবাসী সাজালো রক্তের বিনিময়ে রাজার আসন শুধু নিয়মের বেড়াজালে দূর থেকে শোনে ভাষণ। প্রতি পাঁচ বছর নতুন সাথী নিয়ে দেশ গড়ার আহ্বান অঙ্গীকার দূরে ঠেলে নেতৃত্বের দূরত্বের সাবধানী বিধান; একদিনে পতাকা উত্তোলনে স্মরণ শহীদদের জীবনদান কতো ভেদাভেদ মানুষে মানুষে বিফলে সত্য সন্ধান ! নিশ্চিন্তে মুখে আর কবে আসবে সত্যি সুখের হাসি হৃদয় মাঝে নীরবে আসবে শান্তি রাশি রাশি ; গৃহ ছেড়ে পথে পথে আর কেউ না থাকে মলিন বেশে স্বাধীনতার শান্তি বিতরণ যেন হয় আপামর নির্বিশেষে ।

প্রকৃত স্বাধীনতা - স্বাতী মন্ডল

  কত শত প্রাণ বলি দিয়ে এসেছে স্বপ্নের স্বাধীনতা; কিন্তু প্রকৃত স্বাধীনতা পেতে হলে আগে মনটাকে স্বাধীন করতে হবে ! কাজে প্রমান করতে হবে সত্যিকারের স্বাধীনতা! কত মূল্যবান প্রাণ অচিরেই ঝরেছে, কত মা আত্মত্যাগ করেছে, কত স্ত্রী কত বোন কত সন্তান তাদের প্রিয়জনের বলিদান সয়েছে; শুধুমাত্র দেশমাতাকে স্বাধীন করার জন্য | আমরা সে বলিদানের কতটুকু মর্ম বুঝেছি,কতটুকু মর্যাদা দিতে পেরেছি ! আজও দেশের বেশিরভাগ মানুষ দরিদ্র, অশিক্ষিত, অভুক্ত; মেয়েদের সম্মান এখনো ধূলোয় মিশছে ! কালোবাজারি, অসততায় দেশ ধুঁকছে ! শুধু কি নিজে ভালো থাকা ! আমার পাশের লোকগুলো বাঁচলো কি মরলো দেখার বোঝার কি একটু প্রয়োজন নেই ! কেন; কেন এই স্বার্থপরতা! পৃথিবী ছেড়ে সবাইকেই যেতে হবে শেষে, তাহলে কেন একটু মানবিকতা জাগবে না! কেন সবাই সবার পাশে হাত ধরে ভরসা দেবে না! হ্যা আমরা স্বাধীন, স্বাধীন দেশের নাগরিক আমরা; কিন্তু আজও কি আমরা প্রকৃত স্বাধীনতা আনতে পেরেছি! Like Comment Share

জন্মদিন , নাকি নীল মৃত্যু পদধ্বণি - শ্রী অমিতাভ কর

  জন্মদিন- নাকি,একটা নতুন দিনের জন্ম ! শুকনো পাতা খসে পড়ে , আর আমি নির্মোহ হয়ে হিসেব কষি আরেকটি জন্মান্তরের । রাতের কোলে, দিনের হারিয়ে যাওয়া ডুব - সঙ্গে একটা জন্মের খসে পড়া । মাঝের সময়টুকুতে আমার বড়ো আপন- নীল আকাশ যাপন । আচ্ছা , বাতাসের রং কি ? নীল , নাকি ... আমি কিন্তু জানি , বাতাসের রং । আর শুধু বাতাসই বা কেন ? আমার সমগ্র স্বত্ত্বাই তো নীল । নীল আমার কবিতা , নীল আমার উপন্যাস । যদিও উপন্যাস আমি লিখিনি কখনও , তবু্ও আমার নিজের জীবনকে একটা উপন্যাস ধরলে , বলতেই হয় , তা নীল । আসলে যেদিন থেকে আমি 'নীল' হয়েছি , আমার জন্মদিন নীল হয়েছে , আমি একটা একটা করে শব্দ চয়ন করে সাজিয়েছি আমার নীল পাণ্ডুলিপির পাতাগুলোকে , তা' দিয়ে সময় পেলে একটা উপন্যাস লিখবো । নাম দেবো - নীলাঞ্জলি । আসলে ভালোবেসে ডাকা নাম তো এক অসহ্য সুখ । আমার যে একটা মন আছে , সেই মন দিয়ে আমি অনুভব করি সে সুখ, দেখি নদীর বুকে ভেসে যাওয়া সুখের তরী, মধু খেয়ে ফুলেরই বুকে মুখ ডুবিয়ে অলি-র সুখের ঘুম , আর দেখি শেষের দিনের দিকে সন্তর্পণে এগিয়ে যাওয়া সুখ জীবনের স্বপ্ন । তখন বুঝি জন্মদিন আসলে নীল মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাওয়ার এক নিঃশব্দ প...

স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলেছি - বিশ্বজিৎ মেটে

  লোভ লালসার জালে পড়ে আমরা আজ স্বাধীনতাকে হারিয়ে ফেলেছি.. ক্ষ্যাপা কুকুরের মতো ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাচ্ছি সমাজের নমনীয় মাংস, আর রক্তের স্রোতে ভেসে চলেছে সামাজিক কার্যকলাপ। স্বাধীনতার এতো গুলো বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরে মা, বোনদের ধর্ষিতা হতে হয়! বেঁচে থাকতে হলে পাড়ার মোড়ে মোড়ে রাজনীতির বিজ্ঞাপন দিতে হয়, হিংসা, বিদ্বেষ আমাদের এখন প্রধান অস্ত্র, সুচরিত্রের দাগ টেনে নিজেরাই নগ্ন করছি দেশের পতাকা। স্বাধীনতাকে উপভোগ করতে করতে ভুলে গেছি আধুনিক কর্মকাণ্ড! আর মৃত্যুর হাতছানি হাতের মুঠোয়। আমরা স্বাধীনতা লাভ করেও নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য অন্যের বাসভবনে বুলডোজার চালিয়ে দিতে দিতে পারি.. কিংবা অন্যের বেঁচে থাকার লড়াইয়ে বারুদের স্তুপ নামিয়ে আগুন লাগিয়ে দিতে পারি। চোখ কান খুলে চারদিকে তাকালে দেখা যায় ভয়াবহ অগ্নিগোলক। বেঁচে থাকার অধিকার সবার জেনেও আমরা রোজ কতো অসহায় পশু পাখিকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছি। হাজারো মানুষের মুখের ভাত কেড়ে নিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় স্ট্যাটাস দিচ্ছে আমি দেশকে ভালোবাসি!! সীমান্ত রেখায় যারা দেশের জন্য লড়াই করছেন তাদের কি কোনোদিন যোগ্য সম্মান দিতে পেরেছি?? যারা দেশের জন্...

স্বাধীনতার দাম - অজয় চক্রবর্তী

  কতো মায়ের প্রাণের দুলাল ফিরবে না কোনোদিন, কতো ভগ্নির ভাতৃদ্বিতীয়া হবে না তো চিরদিন। কতো বধূর সিঁথির সিঁদুর অকালে গিয়েছে মুছে, ভাতৃহারা কতো ভাইয়ের স্বপ্ন গিয়েছে ঘুচে। যাদের প্রাণের বিনিময়ে দেশটা হলো স্বাধীন, যাদের ত্যাগের মধ্য দিয়ে মুক্ত পরাধীন। তাদের কথা আজকে যারা ভুলিয়ে দিতে চায়, ইতিহাস টা পাল্টাতে চায় আপন মহিমায়। ডিজিটালের যুগ এসেছে সব থাকো তাই নিয়ে, ইতিহাস টা জানবে কেন কি হবে তা দিয়ে? ওসব এখন থাক না পড়ে বিশ্বায়নের যুগে, কেমন করে থাকবে ভালো সেই পথ নাও খুঁজে। যাদের জীবন বলিদানে স্বাধীন হলাম আজ, তাদের ভুলে যেতে হবে ভুলিয়ে দেওয়াই কাজ। বর্তমান টা চলো কাটাই ভোগে ও বিলাসে, অতীত মানে সময় নষ্ট ভবিষ্যৎ টা আসে। জীবন যাদের গেছে চলে ফিরবে নাতো আর, ওসব ভেবে সময় নষ্ট হচ্ছে সময় পার। লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে পেলাম স্বাধীনতা, কেমন করে ভুলবো তাদের এ কেমন হীনতা? 1 Rina Das

তোমাকে স্যালুট - চন্দনা দাস

  তুমি আসবে বলে, কতো রাত জেগেছি। তুমি আসবে বলে, দু'শো বছর যন্ত্রণা সয়েছি। তুমি আসবে বলে, ব্রিটিশের কশাঘাতে রক্ত ঝরে। তুমি আসবে বলে, বেঁধেছি আশা বুকে। তুমি আসবে বলে, এভুমিতে জন্মেছে বীর বীরাঙ্গনা। তুমি আসবে বলে, ওনারা ধরেছে অস্ত্রখানা। তুমি আসবে বলে, দিকেদিকে জ্বলেছে দাবানল। তুমি আসবে বলে, শূন্য বহু মায়ের কোল। তুমি আসবে বলে, বলিদান দেয় অনেক সিঁদুর। তুমি আসবে বলে, পিতাহারা সন্তানের অবস্থা করুণ। তুমি আসবে বলে, দেশপ্রেমিকরা হুঙ্কারে তোমাকেই চায়। তুমি আসবে বলে, ইংরেজও ভয়ে পালায়। তুমি আসবে বলে, কারার কপাট ভাঙ্গে। তুমি আসবে বলে, পরাধীনতা আমাদের ছাড়ে। তুমি আসবে বলে, ভারতবাসী এক হয়েছে। তুমি আসবে বলে, বিপ্লবীরা তেরঙ্গার ঝাণ্ডা তুলেছে। তুমি আসবে বলে, প্রতীক্ষায় তেত্রিশ কোটি। স্বাধীনতা তুমি এসেছো বলেই আজ এ'শো পঁয়ত্রিশ কোটি, তোমাকে স্যালুট জানায়, "জয়হিন্দ" উচ্চ ভাষায়।

একবার... মনিকান্ত

  এসো... একবার ছুঁয়ে দেখি চিরস্থায়ী স্বাধীনতা একবার অনুভব করি মুক্তির স্বাদ, একবার উঁচুতে মাথা তুলে ধরে - ঝেড়ে ফেলি যত মলিনতার ছোপ দাগ। এসো... একবার প্রতিবাদ করি অন্যায়ের একবার ফিরে পেতে চাও নিজস্বতা, একবার মিথ্যার বিরুদ্ধে গর্জে উঠে - মুছে দিই সত্য'র গায়ে লাগা অপমান। এসো... একবার রুখে দাঁড়াই শোষণের বিরুদ্ধে একবার পাশে থাকি বঞ্চিত মানুষের, একবার ভেঙ্গে দিয়ে ভেদাভেদের আগল - গড়ে তুলি এক নতুন সূর্য ওঠা দেশ। এসো... একবার অন্তত বলি - আমরা স্বাধীন।

স্বাধীনতা চুয়াত্তরে - সত‍্য রঞ্জন বণিক

  স্বাধীনতার চুয়াত্তরে তেরঙ্গা ওড়ে, বুর্জোয়া নেতার প্রতিবাদী চিৎকার। কথার ফুলঝুরি আস্থার অঙ্গীকার, ক্ষুধার্ত শিশুর হাড় ওঠে বুক ফুঁড়ে। বঞ্চনার ঋণে ক্ষয়ে ক্ষয়ে অনাহারে, সাম ‍ ্যতার পাল্লায় প্রাচুর্যের পাহাড়। বুভুক্ষু এ সমাজে কান্নার হাহাকার, জীবন, মৃত্যুর কাছাকাছি অন্ধকারে। আজও পরাধীন, দু-পায়ে লৌহবেড়ি, জীবন ও মৃত্যুর সামান্য ব্যবধান। চিতায় ভস্মীভূত অন্তিম খতিয়ান, কামনার আগুনে দগ্ধ অবলা নারী। স্বাধীনতা একদিনে "বন্দে মাতারমে", উৎযাপিত সর্বত্র মেকি দেশপ্রেমে।

ভাঙা মন্তাজ - অর্পিতা ঘোষ

  চুপকথা নাড়ে বুক, শুনশান রাতে, জেগে থাকে বাতিঘর, স্তব্ধ শুন্য পথে। খুনসুটি কোলাহল, একাকী পথেই সুখ, নীরবতা সারারাত, এ নয় কোনো অসুখ। উন্মাদে ভাঙে পাড়, জল ভাসে প্লাবনে, সোহাগ শীতল রাত, ভরাডুবি হয় মনে। অভিমানি মন তবু, করে আলোর খোঁজ, আকাশের তারাগুলো, আমলকি হয় রোজ। দৃষ্টি ঝাপসা হয়, একা মনের জ্বরে, পথ দেয় হাতছানি, হারিয়ে ফেলার পরে। দেখা যদি হয় পথে, ভরসার কোনো জন, ঠাঁই নিয়ে তার মনে, ঠিকানা পাবো তখন।

এক টুকরো আলো দাও - প্রদীপ হাওলাদার

  আরো একটু আলোর বড়ো প্রয়োজন : শুধু তারই অপেক্ষায় ব'সে আছি বুকের মাঝে এখনো এক টুকরো ছায়া নিয়ে ---- ভোরের অন্ধকারে ভেসে ওঠা ওই একটা সূর্য বড়োই অপারক সে-ছায়া আলোয় ভ'রে দিতে । হৃৎপিণ্ডটা মাঝে মাঝে ফ্রিজ হ'য়ে আসে !! তারুণ্যের স্পন্দনগুলো আর স্ফুলিঙ্গ ছড়ায় না । বুকের মাঝে তাই ব'য়ে চলে কলঙ্কের শীতল শোণিত ধারা ---- সে-ধারায় ফোটে না পুণ্ডরীক , জাগে না সুপ্ত বীজ , পায় না প্রাণ অরণ্যের মর্মর-ধ্বনি ; তাই আর এক টুকরো আলোর বড়োই প্রয়োজন বুকের এই ছোট্টো ছায়াটা আলোয় মুছে দিতে । বিপ্লব ! তুমি জাগো ---- জাগাও এই ম্রিয়মান সভ্যতাকে আরো একবার , আরো একটা রক্তাভ সূর্য নিয়ে এসো ওই অন্ধকারাচ্ছন্ন পূর্বাকাশে ---- আরো একটু তেজি !! আরো একটু তাজা !! দিগন্তের ওই সৌখিন নীলিমাটাকে ভেঙে চুরমার ক'রে হে বিপ্লব ! আমাকে আরো একটু আলো দাও বুকের যন্ত্রণাটাকে মুছে দিতে । যদি পারো তোমাকে একটা বড়ো উপহার দেবো , বিপ্লব , "" স্বাধীনতা "" !! আমা...

রবি উন্মেষ | মৃত্তিকা পরিবারের পঞ্চম ওয়েব ম্যাগাজিন

২২'শে শ্রাবণ উপলক্ষে মৃত্তিকা পরিবারের পঞ্চম ওয়েব ম্যাগাজিন " রবি উন্মেষ "    সম্পূর্ণ ম্যাগাজিনটি পড়তে ক্লিক করুন এই লিংকে - মৃত্তিকা ওয়েব ম্যাগাজিন - রবি উন্মেষ

অবাক কান্ড - শ্রী অমিতাভ কর

অবাক কান্ড বটে , যুদ্ধে যাদের হয় গো যেতে , যুদ্ধ তারা চায় না ॥ আয়েস করে ঘরের কোনে , রণাঙ্গনের স্বপ্ন বোনে , মারতে রাজা দাবার চালে যুদ্ধ করার বায়না ॥ মরলে ক'টা তরতাজা প্রাণ , জড়িয়ে দিয়ে রক্ত নিশান , ছাড়তে গরম বাক্যের বাণ , কিস্যু এসে যায় না , ওদের ......কিস্যু এসে যায় না  ॥ যুদ্ধে যারা বাধ্য যেতে তারাই যুদ্ধ চায় না !! দাবার বোড়ের চাওয়া না চাওয়া মর্যাদা তাই পায়না ॥ 

গল্প - ‘দেখা হোলো’ - তাপসী ঘোষ(বেখেয়ালী)

Writer - Tapasi Ghosh জীবনরথে জীবন পথে চলছি তো চলছি। ক্লান্ত আমি। ক্লান্ত মন। মন বিশ্রাম নিতে চায়। ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়লাম শিলংকে সামনে রেখে। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের সাথে অবশ্যই রইল ডাইরি পেন। ভার মনে বহুদিন লেখা থেকে বিরত। যদি প্রকৃতির কোলে বসে কোনো গল্প মনে আসে! ধরে রাখতে চাই কল্পনাকে ডাইরিতে। - আপনাকে ভীষণ চেনা লাগছে! দেখেছি কোথাও। কামরূপ এক্সপ্রেসে আমি এখন। গৌহাটী হয়ে শিলং যাবো। এই প্রথম একা কোথাও বেরিয়ে পড়া। বেশ লাগছে। খুশি মনে ডাইরি পেন হাতে আমার। ভাবছি কি লিখি কি লিখি! এমন সময়ে ঐ উক্তি কানে এলো। মুখোমুখি সিট্, ভদ্রোলোক এবং আমি। উনি কথাগুলো বলছেন আমাকে উদ্দেশ্য করে। বেশির ভাগ পুরুষেরাই অচেনা মহিলার সঙ্গে আলাপের পথ খোঁজে এমনই কথায়। আমি বিরক্ত। বললাম - স্টেশন থেকেই নজরে রেখেছেন। চেনাতো মনে হবেই।  উচ্চহাস্যে নির্লজ্জের মতো বলে বসলেন - নজরে রাখার জিনিস তাইতো নজরে ছিল। বিব্রত আমি। ট্রেনের কামরায় আরো মানুষ আছেন, শুধু উনি আর আমি তো  নই! তাই প্রশ্রয়ের বদলে চোখে মুখে বিরক্তি ফুটিয়ে বললাম - একজন অচেনা মহিলাকে এইভাবে বলাটা ঠিক নয়। আশ্চর্য! আমার বিরক্তিতে কোনো হেলদোল নেই...

অভিনয় - মনিকান্ত

অথচ সবাই জানি ফিরে যেতে হবে একদিন। নিয়ে যেতে পারবো না কিছুই - শূন্য হাত, বিবস্ত্র দেহ, ধোঁয়াটে আকাশ... পড়ে থাকা বলতে শুধু কয়েকগুচ্ছ অপ্রাপ্তি, জমানো কিছু অভিমান, আর হাজারো ভিড়ের মধ্যেকার নিঃসঙ্গতা। তবুও যেকটা দিন অস্তিত্বের অজুহাতে থাকা- সেখানেও ভীড় করে আসে "আমিত্ব", যা কিছু ভালো - মন্দে মিশে থাকে "আমি" , যা কিছু প্রাপ্তি - অপ্রাপ্তি'তে মিশে থাকে "আমার" - নামক এক উদ্বায়ী শব্দের মোহ।। অথচ, এটুকু বাদ দিলে বাকি সবই অভিনয়.....

সুপ্রভ শব্দের টানে - অমিতাভ মীর

Poet - Amitav Mir  মাথার ওপর ঝরে পড়ে জ্বলন্ত শব্দপ্রপাত, এক এক করে মুহুর্তেই গাঁথা হয়ে যায় শব্দমালা, ক্ষুব্ধ, প্রেমময়, প্রাণীত, অশ্রুত, অনাদৃত, এমন কি; রাজ্যের অচ্ছ্যুত যত শব্দ সমাহার ভীড় করে থাকে। ভালোবাসার কিছু শব্দ আমি অসময়ে এড়িয়ে চলি, কেননা এখন এ তল্লাটে দুর্যোগের ঘোর ঘনঘটা, ঐকান্তিক কামনার সুপ্রভ শব্দের জালে বন্দী থেকে; প্রেমকুঞ্জে অভিসারে যেতে পারে না কোন প্রেমিকবর। যে শব্দ মুখে এলেই নেমে আসে অত্যাচার নিপীড়ন, যে শব্দের কোরাসে শাসকের মসনদে লাগে কাঁপন, নিমেষে একটি সুবর্ণ ভূখণ্ড হয়ে যায় অগ্নিকুণ্ড; শাসকের নধর গলায় দোল খায় লাখো নরমুণ্ড। সেই সুপ্রভ শব্দের টানে- বুকের টকটকে রক্ত অকাতরে দান করেছে পিতা, বুকের একমাত্র সন্তান বলি দিয়েছে স্নেহময়ী মা; লুণ্ঠিত হয়েছে প্রিয় বোন, বধু ও প্রেয়সীর সম্ভ্রম। আমি সে সৌভিক শব্দের টানে দিগন্ত কাঁপিয়ে তুলেছি, সেই অধরা শব্দটা এই হাতের মুঠোয় এসে গেলে, এক পৃথিবী ভালোবাসা আমার বুকে বাসা নেবে; আমিও সেদিন অভিসারী হবো তোমার কুঞ্জবীথিতে। এই রাজ্যের সব অন্ধকার একদিন বিদীর্ণ করে, অরুণ পথে আসবে নতুন প্রভাত অগ্নিরথে, বৈজয়ন্তী তুলে কণ্ঠ...

আষাঢ় এলো দ্বারে - দীপক পাল

Poet - Dipak Pal  এসেছে আষাঢ়         সাজিয়ে পসার             ভরেছে বৃষ্টির ডালা। মাঠ ঘাট আজি       ভরে গেছে সবি             ভরে গেছে নদী নালা।। ঝির ঝির  করে        বৃষ্টি যে ঝরে               হলো আজ দুই দিন। চাতক পাখি           করে ডাকা ডাকি          নাচিছে তা ধিন্ ধিন্। মনের হরষে         মাটির পরষে          মাঠে চাষি করে চাষ। মাছ গুলি জলে      এঁকে বেঁকে চলে        পুকুরে চড়িছে হাঁস।। নীড় হারা পাখি     করে ডাকাডাকি        কোথা ভেসে গেছে ছানা। কেমন করে         যাবে সে উড়ে       বৃষ্টি ভেজা তার ডানা।। চারিদিকে জল             করে টলমল      ...

তিন চার বা ছয়মাস পরে - আর্যতীর্থ

Poet - Dr. Arya Tirtha  তিন চার বা ছয়মাস পরে, আমাদের প্রত্যেকের কাছে কয়েকটা ভাইরাসের গল্প থাকবে। ভয়ে পালানোর গল্প, আতঙ্কে ভুল বোঝার গল্প, বন্ধুকে দুঃসময়ে হাত না বাড়ানোর গল্প এবং দুর্বিনীত মৃত্যুর অকস্মাৎ শিকারের গল্পগুলোর পাশাপাশি সেখানে থাকবে, রুখে দাঁড়ানোর গল্প, অচেনাকে সাহায্য করার গল্প, সেবা ও ভরসা জোগানোর গল্প , কারো অবিশ্বাস্য ভাবে ফিরে আসার গল্প। তুমি ও আমি কোন গল্পে কি চরিত্রে থাকবো, সেটাও কিন্তু ঠিক করতে হবে এই তিন চার বা ছয়মাসেই। এ যুদ্ধে শহীদ হবে কম লোকই, কটা দিন সীমান্তে কাটিয়ে, শতকরা নিরানব্বই ভাগ বাড়ি ফিরে আসবে ‘জিতে গেছি’ বলে। কিন্তু যে গেছে আর যে এলো ফেরত, সে দুটো মানুষ এক হবেনা কখনো। চেনা পাড়ার অচিন বিরোধিতা, ভরসা করা মানুষগুলোর আতঙ্কিত অসহযোগ, অস্পৃশ্যতার নতুন সংজ্ঞায় পরিজনদের বিচ্ছিন্নতাবাদী ফতোয়াগুলোর সাথে, তার অভিজ্ঞতায় থাকবে  ‘ভালো হয়ে যাবে’ বলে রোজ আসা ফোনকল, আপাদমস্তক আবৃত মানুষজনের গ্লাভস পরা ভরসার ছোঁয়া, আধাচেনা ক্লাবের ছেলেদের সংসার চালাতে অযাচিত সাহায্য। এই সব মিলে মিশে, সমস্ত জ্বরফেরত সৈনিক অন্যতর মানুষ হবে , পরিস্...

বৃষ্টিবেলা - সারদামণি মণ্ডল

মনে কি পড়ে... সেদিনের সেই বৃষ্টিবেলা'র কথা আকাশ ভাঙা বৃষ্টিতে ভিজে ছিল সব। হঠাৎ করেই আঁধার চারিপাশ কালো মেঘে ছেয়ে গেল আকাশ ঝমঝমিয়ে কোথা থেকে বৃষ্টি এল তেড়ে আমরা দুজন কেবল অসহায়। আমি তখন তোমার বুকেই নিয়েছি আশ্রয় আঁকড়ে ধরে ভরসা দিলে তুমি ততক্ষণে কাকভেজা দুটো শরীর মন চোখের পাতায় শুধুই জলের রেখা দূরের সবই মিথ্যে ভীষণ এখন সত্যি কেবল শুধু তুমি আমি। কী অপরূপ সেই বৃষ্টিবেলা স্মৃতি গুলো ভীষণ অমলিন। আজ ও যখন ঝরে অঝোর ধারা মনকেমনের জানলা ধারে আমি ব্যাকুল ভীষণ আমার প্রাণ মন আমার কথাই ভাবছো তবে তুমি?