Skip to main content

পুষ্পাঞ্জলি - দলছুট পাখি

থ্যালাসেমিয়া এক মারণ ব্যাধি। সময় মতো রক্ত পরীক্ষা করান। গড়ে তুলুন থ্যালাসেমিয়া মুক্ত সমাজ। সকল ভাবি পিতা মাতার কাছে আমার একান্ত আর্জি।

পুষ্পাঞ্জলি
.....দলছুট পাখি

আর তো বাকি কিছুদিন মা-
পরাবে তো আমায় সাজ?
লাল ফ্রকেতে সাজবো এবার
চুলে বাঁধবো লাল ফিতে;
না বোলো না যেন আবার
তোমার থাক না যতই কাজ।

পাঁচ বাড়িতে বাসন মেজে
ঘরের কাজে ব্যস্ত মা।
বুকের ভেতর শ্রাবণ ধারা
চোখে ধূসর মরুভূমি;
'আজ তো সবে মহালয়া
যা, এখন খেলতে যা।'

মাগো আমার আবার কবে
ওই রক্ত নিতে যেতে হবে?
ভীষণ দুষ্টু ডাক্তার গুলো
সূঁচ ফোটায় খুব জোরে;
এবারেই কি শেষ বার মা
আমার রক্ত নেওয়া তবে?

মায়ের মুখে হাসির ঝিলিক
তোর আর কষ্ট হবে না।
এবারেই দেখিস শেষ বার
ওই হাসপাতালে যাবার;
হাসবি, খেলবি, স্কুলে যাবি
আশীর্বাদ করেছে দুর্গা মা।

মেয়ের চোখে স্বপ্ন হাজার
দুলিয়ে বেণী লাল ফ্রকে।
মণ্ডপে ওই ঢাক বাজছে
পুষ্পাঞ্জলি দু হাত ভরে;
এখানে ওখানে নবমী ভোগ
দুর্গা ভাসান পুকুর পাড়ে।

দেখতে দেখতে দিনটি এলো
ষষ্ঠী ঘটে বোধন পূজা হবে।
কাজের বাড়ি দিয়েছে ফ্রক
হরেক রকম সাজের জিনিস;
একটু যেন ক্লান্তি বেশি
কি ঘটবে আজকে তবে?

হাতের শিরা হারিয়ে গেছে
পায়ের শিরায় চলে খোঁজ।
টুপটুপ টুপ শিউলি ঝরে
পদ্ম ফুটেছে তেমনি লাল;
এমনি করেই শরৎ আসে
শিউলি ঝরে যায় রোজ।

লাল ফ্রকেতে সাজিয়ে মা
নিয়েছে মেয়েকে কোলে তুলে।
ষষ্ঠী পূজার অঞ্জলি শুরু
সঙ্গে শুরু ঢাকের আওয়াজ;
দুর্গা ঘটে অঞ্জলি দেয় মা
শুকনো বাসি শিউলি ফুলে।

Comments

Popular posts from this blog

বোকা দিবসের শুভেচ্ছা - Champa Sader

চালাকি করেই জীবন গেল চালাকি করেই চলছো বেশ চালাকি দিয়েই আগামী যাবে রোজনামচায় দশের দেশ। আমিই কেবল বোকার হদ্দ বোকামিতেই দিন কাটাই, স্বপ্ন দেখেই হাসছি কেবল তারা গুনে রাত ছাটাই। চালাকিটা থাক তোমাদের এদিক সেদিক কথার ভাঁজ, সময় বদল মুখোশ পরে সুযোগ বুঝে বদল সাজ। বোকার মতো হয়েছি খুশি বোকার মতো দিয়েছি তাল, কেন যেন আজও বুঝিনা কোনটা মেকি কোনটা জাল! চালাকি থাক রক্তে তোমার বিজয়ী হও জীবন খেলায়, বোকা হয়েই থাকবো আমি দেখা হবে ভবের মেলায়।

সমকাল কোলাজ ( তৃতীয় সংখ্যা )

  সম্পূর্ণ ম্যাগাজিনটি পড়তে ক্লিক করুন নিচের লিঙ্কে -  সমকাল কোলাজ এপ্রিল সংখ্যা ২০২১

বিষয় - পুজোর প্রেম। গল্প - অল্প প্রেমের গল্প , কলমে - চম্পা সর্দার

জয়াদেবী ফোনটা হাতে নিয়ে উদাস হয়ে বসে ছিলেন বারান্দায়। মনে পড়ছিল- সাগর, ঝিনুক তখন কত ছোট... মা, এবার কিন্তু আমাকে পুজোতে একটা পুলিশের ড্রেস কিনে দেবে, আর একটা বন্দুক। দশ রিল ক্যাপ চাই আমার। রোজ রোদে দেবো, দেখবে কেমন ফাটে। নাড়ু বানানোর জন্য নারকেলে পাক দিতে দিতে জয়া বলে- সাগরের চাহিদা তো শুনলাম এবার তোর কি চাই ঝিনুক? আমার একটা গোলাপি রঙের ফেয়ারি ড্রেস। গোলাপি হেয়ারব্যান্ডও চাই, তিনটে ফুল লাগানো। তা তোমার কি চাই জয়া? বাজারের ব্যাগটা রান্না ঘরের এক কোণে নামিয়ে রাখেন সুব্রত বাবু। আরে, আরে তোমার কি কোনো দিন বুদ্ধি হবে না! একশো দিন বলেছি, বাজার করে ব্যাগ রান্না ঘরে ঢোকাবে না! চেঁচিয়ে ওঠে জয়া। দেখলি সাগর, দেখলি ঝিনুক তোদের মা কেমন সারাক্ষন আমায় বকতে থাকে। তোদের সাথে সাথে আমারও নিস্তার নেই তোদের মায়ের কাছ থেকে। সেবারের পুজোতে ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে ছবি তোলা হয়েছিল স্টুডিওতে। একটা ছবিতে পুলিশের ড্রেস পরে সাগর আর পরীর মতো সাজে ঝিনুক। আর একটা ছবিতে জয়া, সুব্রতর সাথে সাগর, ঝিনুক। ফ্যামিলি ফটো। ফোন গ্যালারিতে ছবিগুলো দেখতে দেখতে চোখটা ঝাপসা হয়ে আসে ষাটোর্ধ্ব জয়ার। এলবাম থেকে ফোনে ছবি ত...