Skip to main content

সুপ্রভ শব্দের টানে - অমিতাভ মীর

Poet - Amitav Mir 
মাথার ওপর ঝরে পড়ে জ্বলন্ত শব্দপ্রপাত,
এক এক করে মুহুর্তেই গাঁথা হয়ে যায় শব্দমালা,
ক্ষুব্ধ, প্রেমময়, প্রাণীত, অশ্রুত, অনাদৃত, এমন কি;
রাজ্যের অচ্ছ্যুত যত শব্দ সমাহার ভীড় করে থাকে।
ভালোবাসার কিছু শব্দ আমি অসময়ে এড়িয়ে চলি,
কেননা এখন এ তল্লাটে দুর্যোগের ঘোর ঘনঘটা,
ঐকান্তিক কামনার সুপ্রভ শব্দের জালে বন্দী থেকে;
প্রেমকুঞ্জে অভিসারে যেতে পারে না কোন প্রেমিকবর।
যে শব্দ মুখে এলেই নেমে আসে অত্যাচার নিপীড়ন,
যে শব্দের কোরাসে শাসকের মসনদে লাগে কাঁপন,
নিমেষে একটি সুবর্ণ ভূখণ্ড হয়ে যায় অগ্নিকুণ্ড;
শাসকের নধর গলায় দোল খায় লাখো নরমুণ্ড।
সেই সুপ্রভ শব্দের টানে-
বুকের টকটকে রক্ত অকাতরে দান করেছে পিতা,
বুকের একমাত্র সন্তান বলি দিয়েছে স্নেহময়ী মা;
লুণ্ঠিত হয়েছে প্রিয় বোন, বধু ও প্রেয়সীর সম্ভ্রম।
আমি সে সৌভিক শব্দের টানে দিগন্ত কাঁপিয়ে তুলেছি,
সেই অধরা শব্দটা এই হাতের মুঠোয় এসে গেলে,
এক পৃথিবী ভালোবাসা আমার বুকে বাসা নেবে;
আমিও সেদিন অভিসারী হবো তোমার কুঞ্জবীথিতে।
এই রাজ্যের সব অন্ধকার একদিন বিদীর্ণ করে,
অরুণ পথে আসবে নতুন প্রভাত অগ্নিরথে,
বৈজয়ন্তী তুলে কণ্ঠ নিঃসৃত সে শব্দ দিগন্তের বুকে-
প্রতিধ্বনি তুলবে; 'স্বাধীনতা', আমার প্রিয় 'স্বাধীনতা'! 

Comments

Popular posts from this blog

বোকা দিবসের শুভেচ্ছা - Champa Sader

চালাকি করেই জীবন গেল চালাকি করেই চলছো বেশ চালাকি দিয়েই আগামী যাবে রোজনামচায় দশের দেশ। আমিই কেবল বোকার হদ্দ বোকামিতেই দিন কাটাই, স্বপ্ন দেখেই হাসছি কেবল তারা গুনে রাত ছাটাই। চালাকিটা থাক তোমাদের এদিক সেদিক কথার ভাঁজ, সময় বদল মুখোশ পরে সুযোগ বুঝে বদল সাজ। বোকার মতো হয়েছি খুশি বোকার মতো দিয়েছি তাল, কেন যেন আজও বুঝিনা কোনটা মেকি কোনটা জাল! চালাকি থাক রক্তে তোমার বিজয়ী হও জীবন খেলায়, বোকা হয়েই থাকবো আমি দেখা হবে ভবের মেলায়।

সমকাল কোলাজ ( তৃতীয় সংখ্যা )

  সম্পূর্ণ ম্যাগাজিনটি পড়তে ক্লিক করুন নিচের লিঙ্কে -  সমকাল কোলাজ এপ্রিল সংখ্যা ২০২১

বিষয় - পুজোর প্রেম। গল্প - অল্প প্রেমের গল্প , কলমে - চম্পা সর্দার

জয়াদেবী ফোনটা হাতে নিয়ে উদাস হয়ে বসে ছিলেন বারান্দায়। মনে পড়ছিল- সাগর, ঝিনুক তখন কত ছোট... মা, এবার কিন্তু আমাকে পুজোতে একটা পুলিশের ড্রেস কিনে দেবে, আর একটা বন্দুক। দশ রিল ক্যাপ চাই আমার। রোজ রোদে দেবো, দেখবে কেমন ফাটে। নাড়ু বানানোর জন্য নারকেলে পাক দিতে দিতে জয়া বলে- সাগরের চাহিদা তো শুনলাম এবার তোর কি চাই ঝিনুক? আমার একটা গোলাপি রঙের ফেয়ারি ড্রেস। গোলাপি হেয়ারব্যান্ডও চাই, তিনটে ফুল লাগানো। তা তোমার কি চাই জয়া? বাজারের ব্যাগটা রান্না ঘরের এক কোণে নামিয়ে রাখেন সুব্রত বাবু। আরে, আরে তোমার কি কোনো দিন বুদ্ধি হবে না! একশো দিন বলেছি, বাজার করে ব্যাগ রান্না ঘরে ঢোকাবে না! চেঁচিয়ে ওঠে জয়া। দেখলি সাগর, দেখলি ঝিনুক তোদের মা কেমন সারাক্ষন আমায় বকতে থাকে। তোদের সাথে সাথে আমারও নিস্তার নেই তোদের মায়ের কাছ থেকে। সেবারের পুজোতে ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে ছবি তোলা হয়েছিল স্টুডিওতে। একটা ছবিতে পুলিশের ড্রেস পরে সাগর আর পরীর মতো সাজে ঝিনুক। আর একটা ছবিতে জয়া, সুব্রতর সাথে সাগর, ঝিনুক। ফ্যামিলি ফটো। ফোন গ্যালারিতে ছবিগুলো দেখতে দেখতে চোখটা ঝাপসা হয়ে আসে ষাটোর্ধ্ব জয়ার। এলবাম থেকে ফোনে ছবি ত...