Skip to main content

তিন চার বা ছয়মাস পরে - আর্যতীর্থ

Poet - Dr. Arya Tirtha 
তিন চার বা ছয়মাস পরে,
আমাদের প্রত্যেকের কাছে কয়েকটা ভাইরাসের গল্প থাকবে।
ভয়ে পালানোর গল্প,
আতঙ্কে ভুল বোঝার গল্প,
বন্ধুকে দুঃসময়ে হাত না বাড়ানোর গল্প
এবং দুর্বিনীত মৃত্যুর অকস্মাৎ শিকারের গল্পগুলোর পাশাপাশি সেখানে থাকবে,
রুখে দাঁড়ানোর গল্প,
অচেনাকে সাহায্য করার গল্প,
সেবা ও ভরসা জোগানোর গল্প ,
কারো অবিশ্বাস্য ভাবে ফিরে আসার গল্প।
তুমি ও আমি কোন গল্পে কি চরিত্রে থাকবো,
সেটাও কিন্তু ঠিক করতে হবে এই তিন চার বা ছয়মাসেই।
এ যুদ্ধে শহীদ হবে কম লোকই,
কটা দিন সীমান্তে কাটিয়ে,
শতকরা নিরানব্বই ভাগ বাড়ি ফিরে আসবে ‘জিতে গেছি’ বলে।
কিন্তু যে গেছে আর যে এলো ফেরত,
সে দুটো মানুষ এক হবেনা কখনো।
চেনা পাড়ার অচিন বিরোধিতা,
ভরসা করা মানুষগুলোর আতঙ্কিত অসহযোগ,
অস্পৃশ্যতার নতুন সংজ্ঞায় পরিজনদের বিচ্ছিন্নতাবাদী ফতোয়াগুলোর সাথে,
তার অভিজ্ঞতায় থাকবে
 ‘ভালো হয়ে যাবে’ বলে রোজ আসা ফোনকল,
আপাদমস্তক আবৃত মানুষজনের গ্লাভস পরা ভরসার ছোঁয়া,
আধাচেনা ক্লাবের ছেলেদের সংসার চালাতে অযাচিত সাহায্য।
এই সব মিলে মিশে,
সমস্ত জ্বরফেরত সৈনিক অন্যতর মানুষ হবে , পরিস্থিতির বিচারে।
সন্দিহান স্বার্থপর অথবা অসময়ে সাহায্যকারী,
আগামীতে কোন মানুষের সুমারি বাড়বে,
সেটা ঠিক হবে আগামী তিন চার বা ছয়মাসে।
নিজের চাইলে ভালো দাঁড়াও এখন এসে মানুষের পাশে।

Comments

Popular posts from this blog

বোকা দিবসের শুভেচ্ছা - Champa Sader

চালাকি করেই জীবন গেল চালাকি করেই চলছো বেশ চালাকি দিয়েই আগামী যাবে রোজনামচায় দশের দেশ। আমিই কেবল বোকার হদ্দ বোকামিতেই দিন কাটাই, স্বপ্ন দেখেই হাসছি কেবল তারা গুনে রাত ছাটাই। চালাকিটা থাক তোমাদের এদিক সেদিক কথার ভাঁজ, সময় বদল মুখোশ পরে সুযোগ বুঝে বদল সাজ। বোকার মতো হয়েছি খুশি বোকার মতো দিয়েছি তাল, কেন যেন আজও বুঝিনা কোনটা মেকি কোনটা জাল! চালাকি থাক রক্তে তোমার বিজয়ী হও জীবন খেলায়, বোকা হয়েই থাকবো আমি দেখা হবে ভবের মেলায়।

সমকাল কোলাজ ( তৃতীয় সংখ্যা )

  সম্পূর্ণ ম্যাগাজিনটি পড়তে ক্লিক করুন নিচের লিঙ্কে -  সমকাল কোলাজ এপ্রিল সংখ্যা ২০২১

বিষয় - পুজোর প্রেম। গল্প - অল্প প্রেমের গল্প , কলমে - চম্পা সর্দার

জয়াদেবী ফোনটা হাতে নিয়ে উদাস হয়ে বসে ছিলেন বারান্দায়। মনে পড়ছিল- সাগর, ঝিনুক তখন কত ছোট... মা, এবার কিন্তু আমাকে পুজোতে একটা পুলিশের ড্রেস কিনে দেবে, আর একটা বন্দুক। দশ রিল ক্যাপ চাই আমার। রোজ রোদে দেবো, দেখবে কেমন ফাটে। নাড়ু বানানোর জন্য নারকেলে পাক দিতে দিতে জয়া বলে- সাগরের চাহিদা তো শুনলাম এবার তোর কি চাই ঝিনুক? আমার একটা গোলাপি রঙের ফেয়ারি ড্রেস। গোলাপি হেয়ারব্যান্ডও চাই, তিনটে ফুল লাগানো। তা তোমার কি চাই জয়া? বাজারের ব্যাগটা রান্না ঘরের এক কোণে নামিয়ে রাখেন সুব্রত বাবু। আরে, আরে তোমার কি কোনো দিন বুদ্ধি হবে না! একশো দিন বলেছি, বাজার করে ব্যাগ রান্না ঘরে ঢোকাবে না! চেঁচিয়ে ওঠে জয়া। দেখলি সাগর, দেখলি ঝিনুক তোদের মা কেমন সারাক্ষন আমায় বকতে থাকে। তোদের সাথে সাথে আমারও নিস্তার নেই তোদের মায়ের কাছ থেকে। সেবারের পুজোতে ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে ছবি তোলা হয়েছিল স্টুডিওতে। একটা ছবিতে পুলিশের ড্রেস পরে সাগর আর পরীর মতো সাজে ঝিনুক। আর একটা ছবিতে জয়া, সুব্রতর সাথে সাগর, ঝিনুক। ফ্যামিলি ফটো। ফোন গ্যালারিতে ছবিগুলো দেখতে দেখতে চোখটা ঝাপসা হয়ে আসে ষাটোর্ধ্ব জয়ার। এলবাম থেকে ফোনে ছবি ত...