Skip to main content

। বোকাদের দিন।- আর্য তীর্থ

এই চালাক পৃথিবীতে, বোকাদের জন্য একটা দিন তোলা থাক।
যারা বরাবার পচা মাছ দেখাতে থাকে সরিয়ে সুচারু শাক,
যদিও জানা কথা, মাছের ব্যাপারীরা তাতে যাবে খেপে।
সেই সব মূর্খদের জন্য , যারা এখনো কথা বলেনা জিভ মেপে,
এখনো যাদের ভাবনা নোঙর হয়নি কোনো ঈশ্বর বা পতাকায়
সেলফির কারিকুরি ছেড়ে, যারা দুনিয়া দেখছে আজও হাতআয়নায়,
তাদের জন্য একটা দিবস রাখা দরকার বছরের ফাঁকে,
যেমন বিবেক এসে মাঝে মাঝে নাড়া দিতো যাত্রাপালাকে।
এরা চিরকেলে বোকা। তার সাথে একগুঁয়ে আর একরোখা,
যেদিকে যাচ্ছে ভিড়, তার বিপরীতে গিয়ে জেদি তাল ঠোকা,
অভ্যেস যেন। স্বভাবত সমকালে প্রবল নিন্দাসহ শাস্তিপ্রাপক,
হিংস্র আগুনে পোড়ে, শাসক গারদে পোরে, দেয় হেমলক।
এরা খোলা মুখে বলে দেয়, রাষ্ট্রের নির্দেশে কোথায় গলদ,
অথচ বিরোধী কোনো রাজনীতিবিদ নয়, সত্যের বোঝা বওয়া কলুর বলদ।
ক্ষমতাবিহীন , তবু নিষ্কম্প স্বরে বলে কোথায় মানুষ মরে ঈশ্বরভেদে,
যত ধর্মের ষাঁড়, এরকম বোকা পেলে তেড়ে গিয়ে দুই শিংয়ে বেঁধে।
মজার ব্যাপার জানো, বোকাগুলো জানে সেটা। প্রাণ যাবে, মান যাবে জানে,
তবু মূর্খের মতো, কাদা-হাঁটু হেঁটে যায়, তখনো অলীক ভাবা পথ সন্ধানে।
এরা পতাকায় নিস্পৃহ, যুদ্ধের বিরোধী, মানুষের সমতার দাবীদার,
যেখানে শোনে না কেউ, প্রবল ধমক ঢেউ, সেইখানে মুঠোহাতে করে চিৎকার।
সক্রেটিস ব্রুনো থেকে লি ওয়েনলিয়াং , এরকম বোকা দিয়ে ভরা ইতিহাস।
দাবাতে পারেনি গলা কোনো রাষ্ট্র, লাগাম দেয়নি জিভে ভয়-ভাইরাস।
এরকম লোকেদের আনতে স্মরণে, মূর্খের একখানা দিন থাক খাস।

Comments

Popular posts from this blog

বোকা দিবসের শুভেচ্ছা - Champa Sader

চালাকি করেই জীবন গেল চালাকি করেই চলছো বেশ চালাকি দিয়েই আগামী যাবে রোজনামচায় দশের দেশ। আমিই কেবল বোকার হদ্দ বোকামিতেই দিন কাটাই, স্বপ্ন দেখেই হাসছি কেবল তারা গুনে রাত ছাটাই। চালাকিটা থাক তোমাদের এদিক সেদিক কথার ভাঁজ, সময় বদল মুখোশ পরে সুযোগ বুঝে বদল সাজ। বোকার মতো হয়েছি খুশি বোকার মতো দিয়েছি তাল, কেন যেন আজও বুঝিনা কোনটা মেকি কোনটা জাল! চালাকি থাক রক্তে তোমার বিজয়ী হও জীবন খেলায়, বোকা হয়েই থাকবো আমি দেখা হবে ভবের মেলায়।

সমকাল কোলাজ ( তৃতীয় সংখ্যা )

  সম্পূর্ণ ম্যাগাজিনটি পড়তে ক্লিক করুন নিচের লিঙ্কে -  সমকাল কোলাজ এপ্রিল সংখ্যা ২০২১

বিষয় - পুজোর প্রেম। গল্প - অল্প প্রেমের গল্প , কলমে - চম্পা সর্দার

জয়াদেবী ফোনটা হাতে নিয়ে উদাস হয়ে বসে ছিলেন বারান্দায়। মনে পড়ছিল- সাগর, ঝিনুক তখন কত ছোট... মা, এবার কিন্তু আমাকে পুজোতে একটা পুলিশের ড্রেস কিনে দেবে, আর একটা বন্দুক। দশ রিল ক্যাপ চাই আমার। রোজ রোদে দেবো, দেখবে কেমন ফাটে। নাড়ু বানানোর জন্য নারকেলে পাক দিতে দিতে জয়া বলে- সাগরের চাহিদা তো শুনলাম এবার তোর কি চাই ঝিনুক? আমার একটা গোলাপি রঙের ফেয়ারি ড্রেস। গোলাপি হেয়ারব্যান্ডও চাই, তিনটে ফুল লাগানো। তা তোমার কি চাই জয়া? বাজারের ব্যাগটা রান্না ঘরের এক কোণে নামিয়ে রাখেন সুব্রত বাবু। আরে, আরে তোমার কি কোনো দিন বুদ্ধি হবে না! একশো দিন বলেছি, বাজার করে ব্যাগ রান্না ঘরে ঢোকাবে না! চেঁচিয়ে ওঠে জয়া। দেখলি সাগর, দেখলি ঝিনুক তোদের মা কেমন সারাক্ষন আমায় বকতে থাকে। তোদের সাথে সাথে আমারও নিস্তার নেই তোদের মায়ের কাছ থেকে। সেবারের পুজোতে ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে ছবি তোলা হয়েছিল স্টুডিওতে। একটা ছবিতে পুলিশের ড্রেস পরে সাগর আর পরীর মতো সাজে ঝিনুক। আর একটা ছবিতে জয়া, সুব্রতর সাথে সাগর, ঝিনুক। ফ্যামিলি ফটো। ফোন গ্যালারিতে ছবিগুলো দেখতে দেখতে চোখটা ঝাপসা হয়ে আসে ষাটোর্ধ্ব জয়ার। এলবাম থেকে ফোনে ছবি ত...