Skip to main content

ছোট গল্প - টাইমপাস - জয়ন্ত

'আই লাভ ইউ টিনা, লেটস গেট ম্যারেড ', কবে থেকে এই কথা গুলো শোনার জন্য টিনা অপেক্ষা করে আছে। অবশেষে , আজ কলেজের শেষ দিনে সমর দেখা করতে চায় টিনার সাথে, একটু আগেই ওর মেসেজ এসেছে। মনে মনে ভীষণ খুশি আজ টিনা। সমরকে সেই কলেজের প্রথম দিন থেকেই ও ভালোবেসে এসেছে , ওরা দুজন কত ঘুরে বেরিয়েছে। একসাথে সিনেমা দেখা , খাওয়া-দাওয়া, বেশ কয়েকবার হোষ্টেলে একসাথে নিভৃতে সময় কাটানো !
আর কয়েকদিন বাকি ওদের কলেজ শেষ হতে। আর শেষ কয়েক মাস ধরে টিনা সমরকে বার বার ওদের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে জিজ্ঞেস করেছে ! আজ অবশেষে, সেই দিনটা এসেছে।
একটু পরে সমর আর টিনার দেখা ক্যান্টিনের পেছনে। সমর কিছু বলার আগেই টিনা ওকে জড়িয়ে ধরে ,
- আমি জানি তুমি কি বলবে সমর। বলো কবে আমরা তোমার মা-বাবার সাথে দেখা করতে যাবো !
সমর একটু পিছিয়ে , ধীরে ধীরে বলে ওঠে,
- টিনা , তুমি ভুল করছো। আমাদের মধ্যে যা হয়েছিল, সে সবই খেলা, টাইমপাস। এভাবে কেউ হঠাৎ করে প্রেমে পড়ে বিয়ে করতে পারে নাকি ? আর আমি তোমাকে, বিয়ে করবো ? আমার বিয়ে হবে কোনো বড়ো শিল্পপতির মেয়ের সাথে , যার অনেক টাকা - বাড়ি - গাড়ি।
- তাহলে ? তাহলে এই মেসেজ করার মানে কি সমর ?
সকালে সমরের পাঠানো মেসেজটা খুলে দেখায় টিনা ওকে।
- ওহ ! ওটা? তুমি তো এমনি দেখাই করতে চাইছো না আমার সাথে বেব। চলো না , ওই সব ভবিষ্যতের কথা ভুলে শেষ যে কয়েকটা দিন আছে, আমরা আবার পরস্পরের হয়ে যাই ! সেই আগের মতো। বুঝতে পারছো ? দেখো আমার রুম এখন পুরো খালি। বাকি দুজনের প্লেসমেন্ট হয়ে গেছে, আর ওরা চলে গেছে তল্পিতল্পা গুটিয়ে। খুব খুব একা একা লাগছে টিনা ! প্লিজ টিনা চলো না আমার সাথে ! আমি, আর তুমি, আর পুরো একটা রুম !
টিনা অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে সমর এর দিকে। চোখ ফেটে জল বেরিয়ে আসছে, কিন্তু তবুও নিজেকে সামলে চলে আসে সমর কে ছেড়ে।
নিজের রুমে এসে ভেঙে পড়ে কান্নায় !
কয়েক বছর পরে শহরের বিখ্যাত শিল্পপতি তমাল ভিমানীর মেয়ে, রিচার বিয়ে। রিচা একজন 'বুদওয়ার' ফোটোগ্রাফার এর সাথে কথা বলে, যে বিয়ের পরে ওর আর ওর স্বামীর খুব ঘনিষ্ঠ কিছু ফটো তুলে দেবে। আর সেই ফটোগুলো শুধুমাত্র ওদের দুজনের প্রাইভেট অ্যালবামে থাকবে।
বিয়ে হয়ে যাওয়ার দু দিন পরে শহরের একটা বিখ্যাত ফাইভ স্টার রিসর্টে ফটোসেশন । নির্দিষ্টি সময়ে ফোটোগ্রাফার চলে আসে , তখনও রিচার স্বামী বাথরুমে। রিচাকে সব কিছু বুঝিয়ে দেয় ফোটোগ্রাফার। রিচা চলে যায় ভেতরে গোলাপি রঙের লেসের লঞ্জারি পরতে। ওর ভীষণ রোম্যান্টিক স্বামীকে ও পরাবে সিল্কের আন্ডারওয়্যার। আর ও থাকবে পুরো খালি গায়ে। তারপর দুজনে মিলে একসাথে তুলবে ভীষণ ঘনিষ্ঠ কিছু একান্ত ব্যক্তিগত ছবি !
একটু পরেই ভেতর থেকে রিচা আর ওর স্বামী বেরিয়ে আসে , ওদের পরণে প্রায় কিছুই নেই !
রিচার স্বামী , সমর ফোটোগ্রাফারকে দেখে প্রথমে ভীষণ চমকে যায় , তারপরে মুচকি হেসে বলে ,
- আমি কি রিচার বুকের ওপরে হাত রেখে , আমার ঠোঁট ওর কাঁধের ওপরে রাখবো ? বেশ ভালো পোজ হবে , তাই না ? না কি রিচা আমাকে জড়িয়ে ধরে থাকবে আর আমি ওর পিঠের ওপর থেকে ব্রা টা খুলে, সেটার ওপরে হাত রেখে ওকে জড়িয়ে থাকবো ? বা আপনিই কিছু বলুন, ভীষণ সেক্সি পোজ চাই কিন্তু।
ফোটোগ্রাফার গম্ভীর মুখে ক্যামেরা, লাইট সেট করতে করতে বলে উঠলো,
- ফোটো তো আপনার পছন্দে তোলা হবে সমর। তবে আপনি যদি কিছু না পরে ফটো তোলেন আপনার স্ত্রীর সাথে, আরো ভালো হবে। আপনার পেছনে যে দুটো তিল আছে, সেটা বেশ একটা অন্য মাত্রা এনে দেবে এই ফোটোতে !
রিচা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে টিনাকে ,
- আপনি, আপনি কি করে জানলেন ? এসবের মানে কি সমর ?
- আমরা ফটোগ্রাফার তো, আর এইরকম 'বুদওয়ার' ফটোই আমি তুলি - একা - এই শহরে। তাই আমাকে অনেক কিছু জানতে হয় রিচা।
সমর কিছু না বলে, চুপ করে থাকে মাথা নিচু করে। কপালের ওপরে জমতে থাকে বিন্দু বিন্দু ঘাম।

Comments

Popular posts from this blog

বোকা দিবসের শুভেচ্ছা - Champa Sader

চালাকি করেই জীবন গেল চালাকি করেই চলছো বেশ চালাকি দিয়েই আগামী যাবে রোজনামচায় দশের দেশ। আমিই কেবল বোকার হদ্দ বোকামিতেই দিন কাটাই, স্বপ্ন দেখেই হাসছি কেবল তারা গুনে রাত ছাটাই। চালাকিটা থাক তোমাদের এদিক সেদিক কথার ভাঁজ, সময় বদল মুখোশ পরে সুযোগ বুঝে বদল সাজ। বোকার মতো হয়েছি খুশি বোকার মতো দিয়েছি তাল, কেন যেন আজও বুঝিনা কোনটা মেকি কোনটা জাল! চালাকি থাক রক্তে তোমার বিজয়ী হও জীবন খেলায়, বোকা হয়েই থাকবো আমি দেখা হবে ভবের মেলায়।

সমকাল কোলাজ ( তৃতীয় সংখ্যা )

  সম্পূর্ণ ম্যাগাজিনটি পড়তে ক্লিক করুন নিচের লিঙ্কে -  সমকাল কোলাজ এপ্রিল সংখ্যা ২০২১

বিষয় - পুজোর প্রেম। গল্প - অল্প প্রেমের গল্প , কলমে - চম্পা সর্দার

জয়াদেবী ফোনটা হাতে নিয়ে উদাস হয়ে বসে ছিলেন বারান্দায়। মনে পড়ছিল- সাগর, ঝিনুক তখন কত ছোট... মা, এবার কিন্তু আমাকে পুজোতে একটা পুলিশের ড্রেস কিনে দেবে, আর একটা বন্দুক। দশ রিল ক্যাপ চাই আমার। রোজ রোদে দেবো, দেখবে কেমন ফাটে। নাড়ু বানানোর জন্য নারকেলে পাক দিতে দিতে জয়া বলে- সাগরের চাহিদা তো শুনলাম এবার তোর কি চাই ঝিনুক? আমার একটা গোলাপি রঙের ফেয়ারি ড্রেস। গোলাপি হেয়ারব্যান্ডও চাই, তিনটে ফুল লাগানো। তা তোমার কি চাই জয়া? বাজারের ব্যাগটা রান্না ঘরের এক কোণে নামিয়ে রাখেন সুব্রত বাবু। আরে, আরে তোমার কি কোনো দিন বুদ্ধি হবে না! একশো দিন বলেছি, বাজার করে ব্যাগ রান্না ঘরে ঢোকাবে না! চেঁচিয়ে ওঠে জয়া। দেখলি সাগর, দেখলি ঝিনুক তোদের মা কেমন সারাক্ষন আমায় বকতে থাকে। তোদের সাথে সাথে আমারও নিস্তার নেই তোদের মায়ের কাছ থেকে। সেবারের পুজোতে ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে ছবি তোলা হয়েছিল স্টুডিওতে। একটা ছবিতে পুলিশের ড্রেস পরে সাগর আর পরীর মতো সাজে ঝিনুক। আর একটা ছবিতে জয়া, সুব্রতর সাথে সাগর, ঝিনুক। ফ্যামিলি ফটো। ফোন গ্যালারিতে ছবিগুলো দেখতে দেখতে চোখটা ঝাপসা হয়ে আসে ষাটোর্ধ্ব জয়ার। এলবাম থেকে ফোনে ছবি ত...